ঢাকা : নিজামীর পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো ডেকেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাদের কারাগারে ডাকা হয়েছে।
নিজামীর ফাঁসি মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর করা হচ্ছে। জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রায় কার্যকরের আদেশ নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৮টার মধ্যে নিজামীর পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো সাক্ষাতের জন্য ডাকা হয়েছে।
ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারে জল্লাদ রাজু ও সহযোগীরা ফাঁসির মহড়াও সম্পন্ন করেছেন।
এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীকে একটি প্রতিনিধিদল জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। নিজামী এতে সাড়া দেননি। এ দলে ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রিজনস) ইকবাল কবীর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি দেয়ার আগে জামায়াত নেতাকে গোসল করানো হবে এবং জমটুপি পরিয়ে ফাঁসিমঞ্চে তোলা হবে। এ সময় উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মো. সালাহ উদ্দিন, সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা, জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সূত্র জানায়, জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বেই নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হতে পারে। এর আগে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করেছিলেন রাজু। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ও সহযোগী ছিলেন এই রাজু।।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
তিনি জানান, প্রাণভিক্ষার আবেদন না করায় যেকোনো সময় নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রী তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলকোড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে দ্রুতই রায় কার্যকর করা হবে এবং ফাঁসি কার্যকর করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন।
জীবনের শেষ সময়টা কারাগারেই কাটালেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী। কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধা সেলের ৮ নম্বর কক্ষে আছেন তিনি। সেল থেকে নিজামীর ফাঁসির মঞ্চের দূরত্ব মাত্র ২০ গজ।
সূত্রটি জানায়, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় রায় পড়ে শোনানোর পর গলা শুকিয়ে যায় নিজামীর। এরপর ওই রাতে কারারক্ষীদের কাছ থেকে ১৭ বার পানি চেয়ে পান করেন তিনি।
সূত্রে জানা যায়, মৃতুদণ্ডের রায় পড়ে শোনানোর পর গভীর রাত পর্যন্ত নিজামী সেলের মধ্যে পায়চারী করছিলেন। পরে রাত ২টার দিকে ঘুমাতে যান তিনি। ভোরা রাতে উঠে আবার ফজরের নামাজ আদায় করেন তিনি।
কারাগার সূত্র জানায়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে নিজামীকেও সকালের নাস্তা দেয়া হয়। দুটি রুটি ও এক বাটি ভাঁজি দিলে কিছু ভাঁজি বাদে সব খেয়ে নেন। তবে ডিম, চা খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ নেই তার। তার চায়ের অভ্যাস নেই বললেই চলে।
সূত্র জানায়, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে চকবাজারের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই ফাঁসির মঞ্চে ঝোলানো হবে নিজামীকে।
কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশের দোকানীরা জানান, ফাঁসি কার্যকরের আগে কারাগার এলাকার আশপাশের সব দোকান বন্ধ রাখতে কারা কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাননি তারা।
তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর একটিই চাওয়া ছিল তা হলো পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করা। এমন আগ্রহের কথা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জানালে পরে সম্মতি দেন তারা।
উল্লেখ্য, নিয়মানুযায়ী রায় পড়ে শোনানোর পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার সুযোগ থাকে।
নিজামীর দল জামায়াতের পক্ষ থেকে এর আগেই দাবি করা হচ্ছে, নিজামী তার স্বজনদের জানিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না।
আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না তার। তাই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে নিজামীকে ফাঁসির রশিতে ঝোলাতে আইনগত আর কোনো বাধা থাকবে না।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁসির প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন কারা কর্মকর্তারা। বৈঠকে ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. ইকবাল, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, জেলার নেসার আলমসহ বেশ কয়েকজন কারা কর্মকর্তা।
১০ মে,২০১৬/এমটিনিউজ২৪/এমআর/এসএম