স্পোর্টস ডেস্ক : নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে গিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে।
এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা মিটিং করার পরও বিসিবির সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের আসর থেকে বাংলাদেশকে বাদই ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি থেকে বাংলাদেশের এমন দুঃসংবাদ পাওয়ার দিনে দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও তার ভক্তদের বড় এক সুখবর দিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাকিবকে জাতীয় দলের জন্য আবারও বিবেচনা করা হবে। এমনকি কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাকে।
এদিন রাতে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, সাকিবের সঙ্গে বোর্ড থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুই (ধরনের) সিরিজই খেলতে পারবেন কি না, জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছে। সাকিব বলেছেন যে তিনি খেলতে চান। তাই বোর্ড থেকে সাকিবকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাকিব আল হাসানের নামে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া, দুদকেও তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। তবে, বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর এ ব্যাপারে বলেছেন, এগুলো সরকারের ব্যাপার।
আসিফ আকবর বলেন, সাকিবের ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো কীভাবে কী হবে, এটা আলাদা ব্যাপার; সরকারের বিষয়। আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি। আমাদের বোর্ডের যে চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের তালিকা হবে, সেখানে আমরা সাকিবকে রাখার প্রস্তাব রেখেছি। সাকিব দেশে এসে রিটায়ার করবে, এটা তার একটা ইচ্ছা। সাকিব একটা ব্র্যান্ড, এমন প্লেয়ার আমরা আর ১০০ বছরেও পাবো না।
তিনি আরও বলেন, এখন যদি সরকার কিছু করতে চায়, তাহলে সেটা সরকারি সিদ্ধান্ত। সেগুলো আইনগত ব্যাপার। সাকিব আগে প্লেয়ার ছিল, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে। সাকিবের বুকে বাংলাদেশের নাম ছিল। সেখান থেকে সম্মান রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। সাকিবকে আমরা খেলাতে চাই। পরে আইনগত পদক্ষেপ কী, এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। আমরা প্লেয়ার সাকিবকে নিয়ে ভাবছি।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমেছেন গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে অবসর নিতে চাইলেও রাজনৈতিক কারণে আর দেশেই ফিরতে পারেননি তিনি।
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসার প্রতিক্রিয়ায় বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ভারতে গিয়ে খেলাটা আমাদের জন্য নিরাপদ না। সেক্ষেত্রে আমরা রিকোয়েস্ট করেছিলাম শ্রীলঙ্কায় খেলাটি স্থানান্তরের জন্য। বেশ কয়েক দফা মিটিং করার পরও আইসিসি সেটিতে সাড়া দেয়নি। যেহেতু সাড়া দেয়নি, সেক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার ছিল না। কারণ, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, সরকার মনে করে, ভারতে গিয়ে খেলাটা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ না। এজন্য এ সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে।