স্পোর্টস ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তোড়জোড়, ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নির্বাচনে ঢাকার দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। এর মধ্যে একটি হলো ঢাকা-১৭ আসন।
‘সবার ঢাকা-১৭’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে তার নামে চালানো হয় নির্বাচনি প্রচারণা। সেই পেজ থেকে পোস্ট করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের একটি ভিডিও। সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অবদান কথা বলেছেন তামিম।
ভিডিওর শুরুতে সবাইকে সালাম দিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আজকে এমন একজন ব্যক্তির ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি, যার ব্যাপারে আমাদের সবার; স্পেশালি যারা ক্রিকেটিং সার্কেলে আছেন, তাদের ১৭-১৮ বছর আগে বলা উচিত ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে উনার যে পরিমাণ অবদান রয়েছে, আমরা তাকে সেই সম্মানটা দিতে পারিনি।’
‘পরিষ্কারভাবে একটি বিষয় বলি। উনার বিষয়ে কিছু বলা যাবে না বা বলতে পারবে না, এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা কারও কাছেই ছিল না। অন্তত আমার কাছে ছিল না। এরপরও কিছু কারণে তাকে প্রাপ্য সম্মানটুকু করতে পারি নাই।’
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব কিংবা ক্রিকেটিং সার্কেলে উনার বিষয়টা উঠে আসতো। কিন্তু পাবলিকলি যে জিনিসটা উনি, উনার পরিবার এবং উনার দুইটা মেয়ে ডিজার্ভ করতেন; সেটা আমরা কখনও বলতে পারিনি। আমিও পারিনি, আমার সঙ্গে আরও অনেকে পারেনি। আবারও বলি এটাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু কোনো এক কারণে আমরা বলতে পারিনি। আমি বলছি আরাফাত রহমান কোকোর কথা।’
ক্রিকেটে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন তামিম ইকবাল। ‘উনার অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটে এতই বড়, আমি আজকে অনেক কিছু আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো। আমার সঙ্গে উনার ছোট স্মৃতিও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, যেটা শুনে আপনারাও অনেক অবাক হবেন। প্রথমে শুরু করি মিরপুর স্টেডিয়াম নিয়ে। আজকে আমরা যে মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলি। আমাদের এত স্মৃতি, এত কষ্ট-দুঃখের সঙ্গী এই মিরপুর স্টেডিয়াম কিন্তু উনার প্রজেক্ট ছিল।’
হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট গঠনে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তখন ছোট ছিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রথম এইচপি ইউনিট ইন্ট্রোডিউজ করলো। তখন আমি, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহসহ আরও অনেকেই এটার প্রথম প্রোডাক্ট ছিলাম। এই ইউনিটটাও উনার করা।’
‘আমার এখনও মনে আছে, বিকেএসপিতে আমাদের ক্যাম্প হতো। এই পুরো জিনিসটাকে তিনি ওভারলুক করতেন। ওই সময়ে উনি আমাদের যে-সব সুযোগ-সুবিধা দিতেন, আমরা এখনও সেসব সুযোগ-সুবিধা পাই কি না আমার সন্দেহ আছে। ক্রিকেটে উনার অবদানের তুলনা হয় না। আমি যতই বলি না কেন, ততই কম হয়ে যাবে।’
কোকোর সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তামিম। ‘২০০৬ সালে আমি জাতীয় দলে প্রথম খেলি। ওই বছর আমার একটা টিমে খেলার কথা ছিল। সেই দলের সঙ্গে চুক্তির হওয়ার দিনে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বলে, আমাকে তারা নিতে পারবে না। আমার এখনও মনে আছে, আমি ইস্টার্ন প্লাজার রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করেছিলাম। তখন তিনি (কোকো) আমাকে ওল্ড ডিওএইচএস টিমে নিতে সাহায্য করেছিলেন। এখন আমি ওই টিমের কাউন্সিলর। ওই মৌসুমটা আমার এতই ভালো যায় যে, ১০ ম্যাচে আমি ৬০০-৭০০ রান করি। ওই মৌসুমটা খেলেই কিন্তু আমার জাতীয় দলে ঢুকা।’
তামিম বলেন, ‘উনার সঙ্গে আমার খুব বেশি দেখা হয় নাই, কয়েকবার হয়েছে মাত্র। তবে যখনই দেখা হয়েছে, চোখে-মুখে বা কথায় আমি ক্রিকেটের প্রতি বা স্পোর্টসম্যানদের প্রতি উনার যে শ্রদ্ধাটা দেখেছি; এটা আমার আজীবন মনে থাকবে। যে-কোনো সাংবাদিক কিংবা সেসময়ের ক্রিকেটারদের উনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ভালো ছাড়া কেউ খারাপ বলবেন না।’
আরাফাত রহমান কোকোর প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘উনি একজন প্রেসিডেন্টের ছেলে ছিলেন, একজন প্রাইম মিনিস্টারের ছেলে ছিলেন। কিন্তু উনি আমাদের জন্য এবং আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য একজন কোকো ভাই ছিলেন। এটাই উনার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল। উনি কোনো ট্যাগ নিয়ে বিসিবিতে আসেন নাই। উনি একজন অর্গানাইজার হিসেবে এসেছিলেন।’
‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে উনার অবদান অনেক বেশি। এই অবদানটা কারও থেকে কম না। কিন্তু তাকে এই সম্মানটা আমরা কোনোদিন দিতে পারি নাই। এমনকি উনার দুইটা মেয়েকেও আমরা বলতে পারি নাই যে, তাদের বাবা আমাদের ক্রিকেটের জন্য কতটা করে গিয়েছেন।’
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, ‘আশা করি আজকে এই মেসেজ কিছুটা হলেও শেয়ার করেছি। কোনোদিন যদি উনার দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগটা হয়, তাহলে তাদের বাবার ব্যাপারে আমি আরও অনেক কিছু বলবো। আজকে আমার বলার এতটুকুই। আশা করি, আমার মতো অনেকেই উনার গল্প শেয়ার করবেন। কারণ আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টসের জন্য কী ছিলেন, মানুষের তা জানা উচিত।’