স্পোর্টস ডেস্ক : জম্মু কাশ্মিরে হামলার ঘটনায় গত বছর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান। এমনকি উভয়পক্ষ সামরিক সংঘাতেও জড়িয়ে পড়ে। সেটি ছিল রাজনৈতিক বিরোধ, একই পরিস্থিতি এবার খেলার মাঠেও গড়িয়েছে।
যদিও দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন বৈরিতার নজির নতুন নয়। কেবল নতুন করে সেখানে যুক্ত হয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হলেও, ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে আইসিসির বিরুদ্ধে! সব বিবেচনায় এবার বিদ্রোহী সংস্থা খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
লোকমুখে প্রচলিত আছে– ক্রিকেট ভদ্র লোকের খেলা। এর মানে অবশ্য অন্য খেলাকে ‘অভদ্রদের খেলা’ বলা হয় এমনটা নয়। তবুও প্রচলিত সেই উক্তি স্মরণ করিয়ে পাকিস্তানি মন্ত্রী খাজা আসিফ ক্রিকেটীয় স্পিরিট রক্ষায় বিদ্রোহী সংগঠন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভারতের কাছে আইসিসি জিম্মি বলেও দাবি তার। সে কারণে কিছুদিন ধরে গুঞ্জন ওঠা বিকল্প ক্রিকেট সংস্থার কথাই শোনা গেল আসিফের কণ্ঠে।
‘সাউথ এশিয়া ইনডেক্স’ নামে একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের টুইট শেয়ার দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যেখানে বলা হয়– বাংলাদেশকে ফিরিয়ে তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করলেই কেবল পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে– পাকিস্তানের বয়কটের সিদ্ধান্তে গর্তে পড়েছে আইসিসি। বড় অঙ্কের রাজস্ব হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থাটি পিসিবির পাকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছে।
ওই রিটুইটের ক্যাপশনে খাজা আসিফ লিখেছেন, ‘ক্রিকেটের নতুন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রয়োজন, যাতে ভদ্র লোকের খেলাটির স্পিরিট বজায় থাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে আছে আইসিসি।’
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী– আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা। কিন্তু ওই ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ওই ম্যাচ থেকে মেগা টুর্নামেন্টটির বড় একটি অর্থ পকেটে পুরে আইসিসি। একইসঙ্গে এই দ্বৈরথ চলাকালে প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান বিজ্ঞাপনী ও টিভি সত্ত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য। ফলে আইসিসি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করার জন্য পিসিবিকে অনুরোধ জানায়।
অন্যদিকে, সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সূচিতে থাকা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ১৫ দিন আগেই এলো বয়কটের ঘোষণা। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য বিকল্প ভাবতে আইসিসির হাতে যথেষ্ট সময় আছে বলে মনে করে পাকিস্তান। একাধিক ক্রিকেট বোর্ডও আইসিসিকে সহায়তা করছে, যাতে পিসিবির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যায়। বৃহৎ আর্থিক লোকসান এড়ানোর লক্ষ্যে আইসিসি দরজার আড়ালে পিসিবির সঙ্গে কথা চালাচালি করছে।
ঠিক কী কারণে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্যের সিদ্ধান্তই এর নেপথ্য কারণ বলে উল্লেখ করেছিল দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজ। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। তাদের প্রতি সংহতির কথা জানিয়ে আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল পিসিবি। এমনকি তারা বিশ্বকাপ বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল।