রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫২:৪০

সাবধান, সন্তানদের জন্য মৃত্যুফাঁদ যে ৭ অনলাইন গেম

সাবধান, সন্তানদের জন্য মৃত্যুফাঁদ যে ৭ অনলাইন গেম

আবারও আলোচনার কেন্দ্রে অনলাইন গেম। এক যুগ আগে রাশিয়ার ‘ব্লু হোয়েল’ গেম কিশোর-কিশোরীদের প্রাণ কেড়ে নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সম্প্রতি গাজিয়াবাদের তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে এসেছে কোরিয়ান ‘লাভ গেম’-এর নাম। যদিও ওই ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, তবু অনলাইন গেমের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

বর্তমানে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশ শিশুর হাতে চলে আসে স্মার্টফোন। অনেক সময় অভিভাবকদের অজান্তেই তারা ডুবে যায় বিভিন্ন অনলাইন গেমে। আর এ আসক্তিই বাড়িয়ে তুলছে ভয়—সন্তান কি কোনো প্রাণঘাতী গেম বা চ্যালেঞ্জের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে না? গাজিয়াবাদ ঘটনার পর এ আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন অনলাইন গেম ও চ্যালেঞ্জ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ফায়ার ফেয়ারি
গেমটি বেশ জনপ্রিয় হলেও ভীষণ বিপজ্জনক। এতে বলা হয়, রাতে স্টোভ জ্বালিয়ে রাখলে তা নাকি পরীতে রূপ নেয়। বাস্তব ঝুঁকি না ভেবেই কিশোর-কিশোরীরা এতে অংশ নেয়, যার পরিণতিতে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে শুধু খেলোয়াড় নয়, পুরো পরিবারই বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।

গ্র্যানি / এভিল নান
অন্ধকার ও ভৌতিক পরিবেশে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে হয় এ গেমে। যে কোনো ভুলে খেলোয়াড় খেলা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় এ গেমে যুক্ত থাকলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফল হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী।

ব্লু হোয়েল গেম
এ নামটি এখন আতঙ্কের প্রতীক। রাশিয়ায় শুরু হওয়া এ গেমে মোট ৫০টি টাস্ক থাকে। শেষ ধাপে আত্মহত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। একবার খেলায় জড়িয়ে পড়লে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ এটি নেশার মতো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

রোবলক্স
এটি মূলত একটি গেমিং প্ল্যাটফর্ম। তবে এখানে অনেক সময় যৌন উপাদান বা ভীতিকর দৃশ্যের দেখা মেলে। বয়সভেদে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে যে কোনো মুহূর্তে এটি শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ক্রোমিং চ্যালেঞ্জ
শুধু গেম নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু চ্যালেঞ্জও প্রাণঘাতী। এ চ্যালেঞ্জে ডিওডোরেন্ট, পেইন্ট থিনার, মার্কার বা নেইলপলিশ রিমুভারের মতো রাসায়নিক শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। এতে মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ
‘পাস আউট চ্যালেঞ্জ’ নামেও পরিচিত। এতে শ্বাস আটকে রাখার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি, খিঁচুনি এমনকি অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বিনাড্রাই১ চ্যালেঞ্জ
এ চ্যালেঞ্জে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত মাত্রায় বেনাড্রিল ওষুধ সেবন করা হয় দৃষ্টিবিভ্রমের জন্য। এর পরিণতি হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, কোমা কিংবা মৃত্যু।

সন্তানের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে