স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারানো সেলেসাওদের জন্য এই ম্যাচটি ছন্দ ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ। আর এই ম্যাচের আবহেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে বারবার ফিরে আসছে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের স্মৃতি, যেদিন হাইতিকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত শতবর্ষী কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ক্যারিবীয় দলটির ওপর আক্ষরিক অর্থেই গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। আক্রমণভাগের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পুরো ম্যাচজুড়ে হাইতির ফুটবলারদের কোনো সুযোগই দেয়নি তৎকালীন দুঙ্গা বাহিনী।
সেদিনের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে দূরন্ত এক হ্যাটট্রিক করে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন তারকা মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ম্যাচের ১১, ২৯ এবং শেষ মুহূর্তে (৯২ মিনিট) গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিক ছাড়াও ব্রাজিলের বড় জয়ে জোড়া গোল করে অবদান রাখেন রেনাতো অগুস্তো। এ ছাড়া বাকি দুটি গোল আসছিল আক্রমণভাগের তারকা গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুকাস লিমার পা থেকে।
ম্যাচের ৭০ মিনিটে হাইতির জেমস মার্সেলিন ব্রাজিলের জালে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করতে সক্ষম হন। ফলে ম্যাচটি শেষ হয় ৭-১ ব্যবধানে। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির কাছে ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হারের যে ক্ষত ছিল, হাইতির বিপক্ষে এই বিশাল জয়টি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছিল। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও সেই চেনা প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে পুরোনো সেই বিধ্বংসী রূপেরই পুনরাবৃত্তি দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা।
যদিও হাইতির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের স্মৃতি বলতে রয়েছে কেবল ১৯৭৪ সালের আসর। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এবার আবারও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় দেশটি। বিপরীতে ব্রাজিল খেলছে নিজেদের ২৩তম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব আসরে অংশগ্রহণ করা একমাত্র দল তারা এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিকও সেলেসাওরা।
ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে ব্রাজিল ও হাইতির। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। শুধু জয়ই নয়, প্রতিবারই হাইতির জালে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তিন ম্যাচে ব্রাজিল মোট ১৭টি গোল করেছে, বিপরীতে গোল হজম করতে হয়েছে মাত্র ১টি।
দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার ৪–০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর ২০০৪ সালে শান্তি মিশন উপলক্ষে আয়োজিত আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতিকে ৬–০ ব্যবধানে হারায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।