স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে টাইগাররা। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। ৭৭.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া।
তবে এখনো অনেক ম্যাচ বাকি থাকায় পয়েন্ট টেবিলের চিত্র বদলে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে ফাইনালের দৌড় থেকে মোটেও ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। বরং নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারলে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তব রূপ দিতে পারে লাল-সবুজের দল।
চলতি চক্রে বাংলাদেশের বাকি রয়েছে সাতটি টেস্ট। এর মধ্যে চারটি দেশের মাটিতে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে চার ম্যাচের সবগুলো জিততে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৬১.১১। এর সঙ্গে আরও একটি জয় যোগ করতে পারলে তা বেড়ে হবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচেও জয় পেলে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে ৭২.২২ শতাংশে। এই মুহূর্তে একই শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড।
তাহলে ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের কত পয়েন্ট প্রয়োজন?
এর সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। কারণ চক্রের আরও অনেক ম্যাচ বাকি এবং অন্য দলগুলোর ফলও সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে আগের তিন চক্রের পরিসংখ্যান থেকে একটি ধারণা পাওয়া যায়। ২০১৯-২১ চক্রে ৭০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০২১-২৩ চক্রে ভারত ৫৮.৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আর সর্বশেষ ২০২৩-২৫ চক্রে ৬৭.৫৪ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া।
অর্থাৎ ৬০ শতাংশের কাছাকাছি পয়েন্ট থাকলে ফাইনালের আশা বেঁচে থাকবে। তবে সেটিকে নিরাপদ অবস্থান বলা যাবে না। অন্যদিকে ৭০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলে ফাইনালের সম্ভাবনা অনেকটাই শক্তিশালী হবে। এখন পর্যন্ত কোনো দল ৭০ শতাংশ বা তার বেশি পয়েন্ট পেয়েও ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ ঘরের মাঠের চার টেস্ট। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভালো ফল করা সম্ভব। পয়েন্ট টেবিলে ইংল্যান্ড সপ্তম এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ নবম স্থানে থাকায় কাগজে-কলমেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ সুবিধাজনক।
তবে আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বিদেশের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকাতেও অন্তত একটি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। যদিও দুই দেশের কন্ডিশনই বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ব্যাটিং ধসের ঝুঁকিও থাকবে। তবু বিদেশের মাটিতে একটি জয়ই ফাইনালের সমীকরণে বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে চার জয় এবং বিদেশে অন্তত একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬৯ শতাংশের কাছাকাছি চলে যাবে। তখন ফাইনালের সম্ভাবনাও হয়ে উঠবে বেশ উজ্জ্বল। অবশ্য সেই পথে স্লো ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোর মতো ভুলও এড়িয়ে চলতে হবে।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তাই এখনো বেশ ভালোভাবেই বেঁচে আছে বাংলাদেশের। বাকি সাত টেস্টে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে পারলেই প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দরজা খুলে যেতে পারে টাইগারদের সামনে।