স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটে এমন কিছু রেকর্ড আছে, যেগুলো ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়। দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের রেকর্ডও ছিল তেমনই একটি। এতদিন সেই কীর্তি ছিল ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের দখলে। তবে এবার তাকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেইলর।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই এই রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়ে নেন টেইলর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের বয়স দাঁড়ায় ২২ বছর ১৪৮ দিন, যা একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ার।
তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের দিনে দলগত সাফল্য পাননি টেইলর। ম্যাচে ৫৯ রানের ব্যবধানে হেরে যায় জিম্বাবুয়ে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ২৯৪ রান তোলে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৫.১ ওভারে ২৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। টেইলরও ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি; ১৩ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
এর আগে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের রেকর্ডটি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের। ভারতের সাবেক এই তারকার ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল ২২ বছর ৯১ দিনের। সেই রেকর্ডই এখন পেছনে ফেলেছেন টেইলর।
তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বাধিক রান ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনও শচীনের দখলেই রয়েছে। ৪৬৩ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৮ হাজার ৪২৬ রান, যা এখনো এই ফরম্যাটে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান।
বর্তমানে ৪০ বছর বয়সী টেইলরের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল ২০০৪ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের আগে ২০৭টি ওয়ানডেতে তার রান ছিল ৬ হাজার ৭০৪। ক্যারিয়ারে করেছেন ১১টি সেঞ্চুরিও।
তবে তার ক্রিকেটজীবন সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন টেইলর। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রকাশ করেন, ২০১৯ সালে কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি তাকে ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব দিয়েছিল।
টেইলরের দাবি, ওই সময় তাকে কোকেন সেবনে প্ররোচিত করা হয় এবং পরে ব্ল্যাকমেলেরও শিকার হতে হয়। যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, কখনোই ম্যাচ গড়াপেটায় জড়াননি। তবে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে জানাতে দেরি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
এই ঘটনায় আইসিসি তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাড়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালে অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। আর ফেরার পরই গড়লেন ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম অনন্য এক রেকর্ড।