স্পোর্টস ডেস্ক : মাঠের ক্যারিয়ারে অর্জনের খাতায় আরকিছুই বাকি নেই লিওনেল মেসির। মাঠের খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর যা অর্জনের বাকি ছিল, সেটাও এবার অর্জন করতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় (ইউবিএ) তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচের আগের দিন এই সম্মাননা মেসির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চপরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তার ক্যারিয়ার উৎকর্ষ, অধ্যবসায়, বিনয় ও নিজ পেশায় নৈতিক চর্চার উদাহরণ। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তার যে দায়বদ্ধতা, সেটিও অনন্য। যে মূল্যবোধগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে ধারণ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা রিকার্দো গেলপি সিদ্ধান্তটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘মেসি সম্পর্কে সব আর্জেন্টাইনই জানেন। ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি কতটা বড় সেটি প্রমাণের জন্য পরিসংখ্যান রয়েছে। তবে আমরা একজন বিনয়ী, অধ্যবসায়ী মানুষকেও সম্মান জানাতে চাই, যিনি আমাদের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের একজন উদাহরণ এবং দূত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সম্মাননার মাধ্যমে আমরা একজন ব্যক্তির গুরুত্ব ও প্রভাবকেও তুলে ধরতে চাই। যিনি খেলাধুলা এবং খেলাধুলার বাইরেও অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বর উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমিলিয়ানো ইয়াকোবিত্তি বলেন, ‘মেসি আর্জেন্টিনার জার্সির মূল্যবোধ বিশ্বকে জানাতে পেরেছেন। সাহস ও সম্মানের সঙ্গে তিনি সেটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তবে এই সম্মানসূচক ডক্টরেট শুধু তার ফুটবল ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি নয়। এটি একটি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা, যা বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরো আর্জেন্টাইন সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে আমরা তাকে জানাচ্ছি।’
সম্মানসূচক ডক্টরেট বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পদবি। এবারই প্রথম কোনো ক্রীড়াবিদকে এই সম্মানে ভূষিত করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে যারা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন এবং নিজেদের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ও মূল্যবোধের প্রভাবশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছেন, তাদের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।’