এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ‘আমার কলিজার টুকরা মারা গেছে, আমার মেয়ের জান ভিক্ষা চাই। আমার পরান পুড়তেছে, আমি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’–কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন পাবনায় ডোবা থেকে খণ্ডিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হওয়া কামরুন্নাহার কলির মা। শিশুটির করুণ মৃত্যুতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
এখন পর্যন্ত আসামি ধরতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী।
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবা থেকে কামরুন্নাহার কলি (১০) নামের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন।
তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারো কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।
শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এর পর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি।
কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করলম তা জানতে চাই।’ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি, খুব শিগগির হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’