এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে ৪৩ কেজিতে ‘মণ’ নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত ‘ধলতা’ না দেওয়ায় পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কৃষকরা।
বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তারা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা অতিরিক্ত ‘ধলতা’ দিতে রাজি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে পেঁয়াজ কেনা থেকে বিরত রয়েছেন। এতে করে তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা এত কষ্ট করে পেঁয়াজ উৎপাদন করি, কিন্তু ধলতা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনছে না। এতে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমরা পেঁয়াজের ন্যায্য দাম চাই।
রাশিদুল নামে আরেক কৃষক জানান সকাল থেকে বাজারে বসে আছি, কিন্তু কোনো পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি। সার-ওষুধের এত দাম কিন্তু আমাদের পেঁয়াজের দাম নেই। তারপরও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ রেখেছে। আমরা ধলতা প্রথা বন্ধ ও সঠিক ওজনে কেনাবেচা চাই।
রতনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী জামির হোসেন বলেন, আমরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ কিনছি- এটা ঠিক না। বাজারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ধলতা দেওয়া হয়, কৃষকরা সেটা না মানায় লেনদেনে সমস্যা হচ্ছে।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং করা হয়েছে। আমরা বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি সমাধানে দ্রুত আবারও বৈঠক করা হবে এবং কৃষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলা দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল, যেখানে উৎপাদিত পেঁয়াজ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাহিদা পূরণ করে। তাই ন্যায্য মূল্য ও সঠিক ওজনে পেঁয়াজ বিক্রির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।