শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৫:৩৮:০৫

র‍্যাব সদস্যের মাথায় খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি, গ্রেফতার ৩

র‍্যাব সদস্যের মাথায় খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি, গ্রেফতার ৩

রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে র‍্যাব সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে র‍্যাব সদস্যের মাথায় খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী। 

এ সময় চাপাতি দিয়ে আঘাত করেছেন অপর মাদক ব্যবসায়ী। এতে আহত হয়েছেন ওই র‍্যাব সদস্য। এ সময় ফেন্সিডিলসহ তিনজনকে আটক করেছে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ১৭৭ বোতল ফেন্সিডিল। পরে র‍্যাবের করা মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
 
গ্রেফতার তিনজন হলেন, গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর ডিমভাঙা এলাকার শাহরিয়ার নাজিম জয় (২১), বুজরুক রাজারামপুর হলের মোড় এলাকার মাহিদ হাসান (১৯) ও সিঅ্যান্ডবি গড়ের মাঠ এলাকার তারেক মাহফুজ (১৯)।
 
গোদাগাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ারের মা আমেনা বেগম মুক্তি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার প্রথম স্বামী শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার। মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় আমেনা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন শহিদুল। পরে মতিউর রহমান মতি নামে গোদাগাড়ীর এক মাদক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন আমেনা। মতি র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। 

এরপর গোদাগাড়ী পৌর যুবলীগের নেতা নুরুজ্জামান ওরফে কাজলকে বিয়ে করেন আমেনা। কিছুদিন আগে একটি মাদক মামলায় নুরুজ্জামান, আমেনা ও তার ছেলে শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি তারা জামিনে বের হন। তারপর আবার র‌্যাবের কাছে মাদকসহ গ্রেফতার হলেন শাহরিয়ার।

র‌্যাব জানায়, ফেন্সিডিল বিক্রির জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মারুফ হোসেন খানের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল বিজয়নগর গ্রামে অভিযানে যায়। তখন চারজন দুটি বস্তা ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। র‌্যাব সদস্যরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে মাহিদ হাসান তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে কনস্টেবল মো. রোকনুজ্জামানের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। 

তা প্রতিহত করতে গেলে রোকনুজ্জামানের একটি আঙুল কেটে জখম হয়। আর শাহরিয়ার তার কোমর থেকে একটি খেলনা পিস্তল বের করে এক র‌্যাব সদস্যের মাথায় ধরে বলে, ‘গুলি করে দেব’। এভাবে তারা ভয় দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও র‌্যাব সদস্যরা তিনজনকে ধরে ফেলে। একজন পালিয়ে যায়। আহত র‌্যাব সদস্য রোকনুজ্জামান গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় র‌্যাবে কর্মরত উপ-পরিদর্শক ত্রিনিবাস মিস্ত্রি বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় চারজনের নামে মামলা করেছেন। গ্রেফতার তিনজনকে গোদাগাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মারুফ হোসেন খান বলেন, খেলনা পিস্তলটি হাতে না নিলে বোঝার উপায় নেই। এটি দিয়েই মাদক ব্যবসায়ী হয়তো মানুষকে জিম্মি করেছে। পিস্তলটি হাতে নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন সেটি খেলনা পিস্তল।

এমটিনিউজ২৪.কম এর খবর পেতে Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, এমটিনিউজ২৪ টুইটার , এমটিনিউজ২৪ ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে