শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬:০৮

শিক্ষক ছাত্রীদের নিজ হাতে সিগারেট খাওয়াচ্ছেন! এলাকাজুড়ে তোলপাড়

 শিক্ষক ছাত্রীদের নিজ হাতে সিগারেট খাওয়াচ্ছেন! এলাকাজুড়ে তোলপাড়

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাজশাহীর তানোরে ‘ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারের’ পরিচালক শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ছাত্রীদের নিজ হাতে সিগারেট খাওয়াচ্ছেন এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

শিক্ষক খাইরুল ইসলামের ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারটি তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর বাজারের উত্তরে অবস্থিত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওই ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারে শিক্ষক খাইরুল ও এক ছাত্রীর এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

একই সঙ্গে শিক্ষক নামের কলঙ্ক খাইরুলের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে স্থানীয়রা। শিক্ষক খাইরুলের শাস্তির জোর দাবি উঠেছে শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে সর্বমহলে। সেইসঙ্গে প্রাইভেট সেন্টারে পড়াশোনা হয়, নাকি শিক্ষক ধূমপানসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত এমন প্রশ্নও জনমনে।

শিক্ষক খাইরুলের বাড়ি তানোর পৌরসদর এলাকার আমশো গ্রামে। তার শ্বশুরবাড়ি মুন্ডুমালা উত্তরপাড়া গ্রামে। সেই সুবাদে খাইরুল মুন্ডুমালা উত্তরপাড়া মসজিদ সংলগ্ন তিনতলা বাড়ির নিচতলায় প্রাইভেট সেন্টার গড়ে তুলেছেন। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে খাইরুল ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফিজিক্স প্রাইভেট সেন্টারের রুম রয়েছে। রুমে বিছানায় বসে আছেন শিক্ষক খাইরুল ও তার ডান পাশে বসে আছে এক ছাত্রী। শিক্ষক সাদা রঙের সিগারেট জ্বালিয়ে ওই ছাত্রীর হাতে দেয়। হাতে পেয়ে ওই ছাত্রী সিগারেট টানা শুরু করে। তাদের সামনে আরও কয়েকজনকে কথা বলতে শোনা যায়। ওই ছাত্রী বলে ভিডিও করলে সিগারেট খাব না। তাদের সামনে আরও কয়েকজনকে দেখা যায়, তারাও ধূমপান করছে।

অভিভাবকদের দাবি, মুন্ডুমালা বাজারে প্রায় ২০ বছর ধরে কোচিং সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় কিছু শিক্ষক ও যুবক কোচিং পরিচালনা করে থাকে। সুনামের সঙ্গে কোচিং সেন্টার চলছে, কিন্তু কোনো অপকর্ম ঘটেনি। অথচ খাইরুল মাত্র কয়েক বছরে নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত। আমরা ছেলে-মেয়েদের ফলাফল ভালো করার জন্য প্রাইভেটে দিয়ে থাকি। আর সেই সুযোগে শিক্ষার্থীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ধূমপানের মতো অপরাধ করছে। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তারা যদি অমানুষের মতো রূপ নেয় তাহলে কী বলার আছে। খাইরুলের মতো শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে চরম সাজা দেওয়া দরকার। তাহলে অন্যরা শিক্ষা নিতে পারবে। আর প্রাইভেট সেন্টারে কেন বিছানা থাকবে। সেখানে তো কেউ আরাম করতে যায় না, সবাই পড়তে যায়। অবশ্যই এমন অপকর্মের কারণেই ক্লাশরুমে বিছানা করে রাখা হয়েছে। খাইরুল যে এর চেয়ে ভয়াবহ অপরাধ করেনি এটার তো কোনো গ্যারান্টি নেই। তিনি বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করেছেন। তা না হলে বিছানা থাকার কথা নয়। আবার ধূমপানের ভিডিও আরেকজনকে দিয়ে করানো হচ্ছে কারণ ওই ছাত্রীকে যাতে ব্ল্যাকমেইল করে নানা অপকর্ম করা যায়। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে