বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬, ০৮:৪২:২২

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এ কি কাণ্ড!

 মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এ কি কাণ্ড!

রাজশাহী : মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এ কি কাণ্ড! এমন ন্যক্কারজনক কাজ কি করে করলেন তিনি?  হাত-পা টিপে দেয়ার নাম করে অধ্যক্ষের এমন ধিক্কার দেয়া কাণ্ড সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ওই মাদ্রাসাছাত্র (১৩) জানায়, প্রায়ই ডেকে নিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন ওই অধ্যক্ষ। কখনো তার ঘরে, আবার কখনো আবাসিক ভবনের নিচতলায় মসজিদের ভেতর দিনের পর দিন তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চলতো বলে জানায়।
 
'সর্বশেষ গত ২২ রোজার রাতে তারাবীহ শেষে তাকে মসজিদে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন অধ্যক্ষ।'
 
রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই মাদ্রাসাছাত্র।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে এমন কথা বলে সে।
 
সে জানায়, তার বাড়ি নগরীর ওয়াবদা কলাবাগান এলাকায়। জামিয়া রহমানীয়া মাদ্রাসায় সে হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করত। এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার জিহাদী।
 
ওই ছাত্র বলে, হুজুর প্রায় রাতেই হোস্টেলে আসতেন। পা টিপে নেয়ার নামে সব ছাত্রের সামনে থেকেই আমাকে তার ঘরে ডেকে নিতেন।  তারপর আমার সঙ্গে এসব করতেন।  বাধা দিলে ক্লাসে আমাকে মারতেন।
 
সে বলে, এ কারণে মাদ্রাসায় পড়বো না বলে অনেক দিন বাড়ি পালিয়ে গেছি।  কিন্তু বাড়িতে এসব কথা বলতে পারিনি।  হেফজ করতে পারি না ভেবে আব্বাও আমাকে মারতেন।  তারপর আবার মাদ্রাসায় রেখে আসতেন। তারপর আবার হুজুর আমাকে নিয়ে যেতেন।
 
ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, মাদ্রাসায় পড়বে না বলে প্রায়ই তার ছেলে সেখান থেকে পালিয়ে আসত।  তিনি ভাবতেন, তার ছেলে হয়তো কোরআন মুখস্ত করতে না পেরে পালিয়ে এসেছে।  তাই জোর করে তাকে তিনি আবারো রেখে আসতেন।
 
তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ঈদে বাড়ি এসে এবার সে কোনোভাবেই মাদ্রাসায় যাচ্ছিল না।  পরে বাধ্য হয়ে সে সব কথা খুলে বলে।  এরপরই তিনি থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।'
 
অধ্যক্ষের এমন কাণ্ডে থানায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই শিক্ষার্থীর মা।  তিনি বলেন, আমার ছেলের মতো কত ছাত্র নির্যাতিত হয় তার কোনো ঠিক নেই।  এমন অধ্যক্ষের শাস্তি চাই।  তা না হলে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে মানুষের বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে।

এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বলেন, অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার জিহাদীর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে।  তার বাবার নাম ফকির মাহমুদ।
 
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিকটিমকে সঙ্গে এনে তার বাবা-মা ওই অধ্যক্ষর নামে থানায় মামলা করেন।  এরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  পরে বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বশির আহম্মেদ বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে।  অভিযুক্ত মাদ্রসার অধ্যক্ষ জিহাদীর রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
২১ জুলাই,২০১৬/এমটিনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এমআর/এসএম

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে