শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ০৪:৪৩:০২

জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি : আসমা আক্তার

জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি : আসমা আক্তার

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ‘আমার স্বামী ফোনে অন্য মেয়েদের সঙ্গে কথা বলত। আর এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমি বুঝতে পারিনি এত জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দিই। আমি জীবনে কখনো একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এ ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল, বুঝতে পারিনি।’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্ত্রী আসমা আক্তার কথাগুলো বলেন।

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন তিনি। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে