বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ০১:০১:৪১

ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায়

ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায়

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সামনে ঘোড়ার গাড়ি। সেই গাড়ির পেছনে শত শত মোটরসাইকেলের বর্ণিল শোভাযাত্রা। সড়কের দুই পাশে অপেক্ষায় গ্রামের শত শত বাসিন্দা। ঘোড়ার গাড়িটি যে পথে যাচ্ছে, উঠছে হই হই রব।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৭ নং ওয়ার্শি ইউনিয়নের নতুন কহেলা গ্রামে  মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দেখা গেছে এমন চিত্র। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও মির্জাপুর উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্শি ইউনিয়নের নতুন কহেলা গ্রামের মসজিদের ইমামকে বিদায়ী বেলায় হয়েছে এমন আয়োজন। এই রাজকীয় সংবর্ধনার পাশাপাশি পেনশন হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ টাকা। ইমামের বিদায়ী এ অনুষ্ঠান চলাকালে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে। বিদায়ী বেলায় কান্নায় ভেঙে পড়েন কেউ কেউ। 

রাজকীয় বিদায় পাওয়া এ ইমামের নাম মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে মাওলনা মোহাম্মদ শাহজাহান খানের গ্রামের বাড়ি। রাজধানী ঢাকার লালবাগের একটি স্বনামধন্য মাদ্রাসা থেকে মাওলানা পাশ করার পর ১৯৯১ সালে নতুন কহেলা জামে মসজিদে মাত্র ৬০০ টাকা বেতনে ইমাম ও খতিবের চাকুরি পান মাওলনা মোহাম্মদ শাহজাহান খান। কর্মজীবনের শেষ তার বেতন হয়েছিল ১৭ হাজার টাকা। তিনি ন্যায়, নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

এই পর্যন্ত এলাকার প্রায় দুই হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীকে কুরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন শাজাহান খান। গ্রামবাসী ও মসজিদের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালে তাকে সৌদি আরবে ওমরা হজ্বে পাঠানো হয়। গত ৩১ মার্চ ছিল তার শেষ কর্মদিবস। তাই মঙ্গলবার তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান ঘিরে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠ। তার বিদায় বেলায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল নিস্তব্দ হয়ে যায়।

বিদায় বেলায় গ্রামের মানুষ ও মসজিদের পক্ষ থেকে ইমামকে পেনশনের ৯ লাখ ৩শত টাকাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। তিন শতাধিক মানুষ শতাধিক মোটর সাইকেল নিয়ে গোড়ার গাড়িতে ওই ইমামকে ৭ কিলোমিটার দূরে তার গ্রামের বাড়ি দেওড়া গ্রামে পৌঁছে দেয়।

নতুন কহেলা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, মাওলানা শাহজাহান খানের মত মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। তার যে সততা আমাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার মত মানুষকে আমরা সম্মান জানাতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া।

নতুন কহেলা গ্রামের মসজিদ কমিটির সভাপতি সেলিম হোসেন খান বলেন, ইমাম সাহেব ছিলেন আমাদের বটবৃক্ষের মত। সততার মুকুট হিসেবে কর্মজীবনে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সমাজের যে কোনো ধরনের কঠিন সমস্যা তিনি সমাধান করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিদায়ী ইমাম ও খতিব মাওলানা শাহজাহান খান বলেন, হাদিস, দ্বীন ও কোরআনের আলোকে আমি ন্যায়, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কখনও টাকা পয়সার দিকে ছুটি নাই। সমাজবাসী আমার উপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল তা আমি পালন করার চেষ্টা করেছি। আমার শেষ জীবনে তারা যে সম্মান দেখিয়েছেন এটা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। আমি ও আমার পরিবার তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুর ইসলাম বলেন, একজন ইমাম ও খতিব এতটা জনপ্রিয় থাকতে পারেন তা আমার জানা ছিল না। নতুন কহেলা সমাজবাসী ও গ্রামবাসী একজন ইমামকে যে সম্মান দেখিয়েছেন এটা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পুরো দেশবাসী এটা দেখবেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে