বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৩:৫১

পাঁচ দিন বয়সী যমজ দুই কন্যা সন্তানকে রেখে উধাও মা!

পাঁচ দিন বয়সী যমজ দুই কন্যা সন্তানকে রেখে উধাও মা!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : পাঁচ দিন বয়সী যমজ দুই কন্যা সন্তানকে রেখে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মারিয়া নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় শিশু দুটির বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা সাকিব হোসেন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরশহরের ধারিয়াল এলাকায়।

অভিযুক্ত মারিয়া ঘাটাইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ময়েন উদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী সাকিব হোসেন পৌর শহরের ধারিয়াল এলাকার সোলায়মান হোসেনের ছেলে। নবজাতক দুই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে মাহা এবং মানহা।

স্থানীয়রা জানান, আড়াই বছর আগে ১৭ বছর বয়সী সাকিব ও ১৫ বছর বয়সী মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অসম এই বাল্যবিবাহ তাদের উভয় পরিবারের সদস্যরা মেনে না নিলে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাকিবের পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে পুত্র ও পুত্রবধূকে ঘরে তুলে নেয়।

তারা আরও জানান, গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ দুই কন্যা সন্তান প্রসব করেন মারিয়া। দুই সন্তানসহ মাকে সাকিব নিজ বাড়ি ধারিয়ালে নিয়ে আসে। কিন্তু গত ১৭ আগস্ট রাত থেকে কাউকে কিছুই না জানিয়ে নবজাতক দুই সন্তানকে বাড়িতে একা রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মারিয়া। এখনো মা ফিরে না আসা নবজাতক দুটির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নবজাতকের বাবা সাকিব হোসেন বলেন, যমজ শিশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। নবজাতকের জন্য অনেক সমস্যার সমাধান করা গেলেও মায়ের অভাব কোনোভাবেই পূরণীয় নয়।

তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে কোথায় চলে গেছে তা তিনি জানেন না। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে মায়ের খুবই প্রয়োজন। তবে আমাদের বিয়ের বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ি মেনে নেয়নি। তাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারিয়ার বাবা ময়েন উদ্দিন বলেন, তার মেয়ে এখন কোথায় কী অবস্থায় আছে সেটি তার জানা নেই। ওই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মেয়ে, মেয়ের জামাই এবং তাদের সন্তান বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

মায়ের সংস্পর্শ না পেয়ে নবজাতক সন্তানের যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রে আপনি নিজে মানবিক দায় এড়াতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পেয়েছি। শিশু দুটির মাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে