সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৯:৫০

এ কেমন সু-খবর!

এ কেমন সু-খবর!

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর...’। প্রতিদিন মাইকের এমন উচ্চ শব্দে ঘুম ভাঙে ফকিরহাট উপজেলার মানুষের। কখনো বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও নানা সুযোগ-সুবিধার সুখবর, কখনো ভর্তি কোচিং, দোকান, হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের প্রচার। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের অফার, কম দামে ডিম-মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারে চলছে মাইকিং। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোথাও আবার রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ এ এলাকার মানুষ।

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারের নামে শব্দদূষণ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। দিন দিন বাড়ছে ‘সু-খবরের’ নামে শব্দদূষণের চাপ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়। বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারদের প্রচার, কোচিং সেন্টারের ভর্তি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন।

জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আসেন। তাদের আসার খবর জানিয়ে রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাইকিংয়ের জন্য তাদের দৈনিক ১ হাজার টাকা দেন। সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে তারা প্রচার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শোরুমের প্রচারেও উচ্চ শব্দে মাইকিং চলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভির হাসান অনিক বলেন, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য শব্দের ৪৫ ডেসিবেল হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। তবে তা ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে ক্ষতিকর এবং ১৩০ ডেসিবেল হলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ভয় থাকে।

ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হয়, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের উপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে মাইকিংয়ের শব্দ ৫৫ সেকেন্ড ধরে মোবাইলের সাউন্ড মিটার অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এতে গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ৭৮ দশমিক ১ ডেসিবেল এবং সর্বোচ্চ ১০২ দশমিক ৫ ডেসিবেল।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘নীরব এলাকা’। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী আকৃষ্ট করতে কোনো চিকিৎসক বা ক্লিনিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে শব্দদূষণ করতে পারবে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শব্দদূষণে ভুক্তভোগী কোনো নাগরিক অভিযোগ করলে প্রচলিত আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-যুগান্তর

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে