বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৩৬:৪০

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে অর্ধেক দামে

 অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে অর্ধেক দামে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাজারে বেসরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার যখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রীয় কোম্পানির একই ওজনের গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দাম মাত্র ৮২৫ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এত কম দামে সরকারি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার খবরটি অধিকাংশ সাধারণ ক্রেতা তো বটেই, অনেক খুচরা বিক্রেতাও জানেন না।

সরকারি এই গ্যাস সিলিন্ডারের সন্ধানে গাইবান্ধা শহরের শহরের থানাপাড়া, গোরস্থান মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরকারি গ্যাস সিলিন্ডারের দেখা মেলেনি।

বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বিস্ময় 
 
খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা সরকারি সিলিন্ডার কোনোদিন চোখেই দেখেননি। রাসেল মিয়া নামের এক বিক্রেতা বলেন, 'সরকারি সিলিন্ডার জীবনে চোখেও দেখি নাই। ডিলার কে বা কোথায় পাব, তাও জানি না। বেসরকারি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।'

মাত্র ৮২৫ টাকায় সরকারি গ্যাস পাওয়া যায় শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন অনেক ক্রেতাও। বছরের পর বছর বেশি দামে গ্যাস কিনে আসা ভোক্তারা এখন চরম বিপাকে।

 মানিক বাহার নামে এক ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, 'গত মাসেও ১৫০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনেছি। আমি জানতামই না যে ৮২৫ টাকায় গ্যাস পাওয়া যায়। সরকার যদি এই গ্যাসের সরবরাহ বাড়াত, তবে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এমন একচেটিয়া ব্যবসা করতে পারত না।'
 
কায়সার রহমান রোমেল ও শাহ আলম যাদু নামে দুই ক্রেতা জানান, বাসার রান্নার প্রয়োজনে তারা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। কিন্তু কখনো কোনো দোকানে বা ডিপোতে সরকারি গ্যাস বিক্রি করতে দেখেননি। এমনকি এত কম টাকায় সরকার যে গ্যাস সরবরাহ করে, তা-ও তাদের জানা ছিল না।
 
কুদ্দুস আলম নামে আরেক ভোক্তা বলেন, 'সরকারের এত ভালো উদ্যোগ কেন গোপন রাখা হয়! জনগণের টাকায় সরকার যে গ্যাস উৎপাদন করে, সেই গ্যাস অবশ্যই জনগণের ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা দরকার। বর্তমান সরকার যদি সরকারি এই গ্যাস ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে, তবে তা হবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।'
 
ডিলারদের অনীহা ও সরবরাহ সংকট 
 
গাইবান্ধা শহরের উত্তরা অয়েল এজেন্সির পরিচালক রফিক নওশাদ রাজু বলেন, 'সরকারি সিলিন্ডারের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত। আগে সপ্তাহে মাত্র ১০ থেকে ২০টি সিলিন্ডার দেয়া হতো, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। এছাড়া সরকারি স্লিপ বা চিরকুটের চাপে সাধারণ ক্রেতাদের গ্যাস দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।'
 
তিনি আরও জানান, সিলিন্ডারগুলোর নাজুক অবস্থা এবং ওজনে কম থাকার অভিযোগ তুলে অনেক ডিলার ২০১২ সালের পর থেকে সরকারি গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন।
 
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিচালক নাজনীন পারভীন বলেন, 'ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় এই স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।'
 
তবে ভবিষ্যতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মতো সুলভ মূল্যে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও জানান বিপিসির এই পরিচালক।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে