এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নড়াইলে এক প্রসূতি মা একসঙ্গে সাতটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এদের মধ্যে তিন কন্যা সন্তান ও চার পুত্র। তবে জন্মের পরপরই মারা গেছে তারা। সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে কালুখালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে ৬টি সন্তানকে। অপর একটি সন্তানকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, শিশুগুলোর বাবা কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যা। বিয়ের ১০ বছর পর তার স্ত্রী সালমা বেগম সন্তান সম্ভাবা হন। কয়েক মাস পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে জানতে পারেন সালমা বেগমের গর্ভে ৬টি সন্তান রয়েছে। পরে দেখা গেলো সালমা বেগম ৭টি সন্তান প্রসব করেছেন।
মহসিন মোল্যার মা জানান, ছয়টি সন্তানের খবর জানতে পেরে তাদের পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছিল। সোমবার (৪ মে) বিকেলে হঠাৎ করে তার পুত্রবধূর পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে সেখানে প্রথমে একটি সন্তান জন্ম নেয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়। মহসিনের বাবা মৃতদেহটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর রাতে আরও একটি সন্তান জন্ম নেয়। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শিশুটিরও মৃত্যু হয়। এরপর রাতেই যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয় দ্বিতীয় শিশুটিকে।
পরের দিন বুধবার রাতে একে একে আরও ৫টি সন্তান প্রসব করেন সালমা বেগম। জন্মের বেশ কিছুক্ষণ পর ওই শিশুরাও মারা যায়।
শিশুদের দাদা লতিফ মোল্যা বলেন, ‘রাতে জন্ম নেয়া ৫টি শিশুর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে কবর খুড়ে আমি নিজের হাতে দাফন করি। নিজ হাতে এতোগুলো শিশুকে দাফন করা যে কতবড় কষ্টের তা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।’
প্রতিবেশি শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, এক সাথে এতোগুলি সন্তান কারও হয়েছে এমন তথ্য আমি আগে কখনো শুনি নাই। মহসিনের স্ত্রী সালমা বেগমের সন্তানগুলোর গর্ভকালীন বয়স ৫-৬ মাস হয়েছিল।