এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রেমের টানে হাজার মাইলের দূরত্ব আর ভাষার প্রাচীর ডিঙিয়ে চীনের বেইজিং থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন বিং নামে এক যুবক। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি বিয়ে করেছেন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে তন্দ্রা খাতুনকে। ফেসবুক বা সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, ভাষাশিক্ষার একটি অ্যাপ থেকে তাদের এই সম্পর্কের শুরু হয়েছিল।
ব্যতিক্রমী এই বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাইনিজ জামাইকে এক নজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার কৌতূহলী মানুষ।
যশোর সদর উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত তন্দ্রা খাতুন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'হ্যালোটক' -এর মাধ্যমে চীনের বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিংয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় তার। পরবর্তীতে তা গড়ায় 'উইচ্যাট' -এ। নিয়মিত কথা বলতে বলতে একে অপরের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। প্রায় ৮ মাসের সম্পর্কের পর দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাতে দুই পরিবারেরই পূর্ণ সম্মতি মেলে।
তন্দ্রা আরো জানান, প্রেমের টানে গত ১৮ জুন বাংলাদেশে পা রাখেন লি বিং। আর তার পরদিনই ১৯ জুন সন্ধ্যায় ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক রীতি মেনে তন্দ্রার সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লি বিং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এর আগে সে নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম অনুসরণ করত না। লি এখন তাদের বাড়িতেই আছে। ভিসার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই তন্দ্রা তার সাথে চীনে চলে যাবেন।
এদিকে বাংলাদেশ এসে মুগ্ধ চীনা তরুণ লি বিং। তিনি বেইজিংয়ের একটি স্মার্ট লক (তালা) তৈরি সংস্থায় কর্মরত। বাংলাদেশে এসে এবং বিয়ে করে তার অনুভূতি দারুণ। ভাঙা ভাঙা কথায় তিনি বলেন, 'আমার বউ খুব ভালো, অনেক ভালো। বাংলাদেশের পরিবেশ আমার খুব ভালো লেগেছে। বউয়ের পরিবারের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনরা ভীষণ দয়ালু। এখানে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।'
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম এই বিয়েতে বেশ আনন্দিত। তিনি জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পর্কের সূত্রপাত হলেও দুই পরিবারের সম্মতিতেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। জামাই হিসেবে লি বিংকে পেয়ে তিনি খুশি।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এ বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তন্দ্রার প্রতিবেশী কুলসুম বেগম জানান, তাদের এলাকায় এর আগে কখনো এমন বিয়ের ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই পুরো এলাকায় এক ধরণের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন মানুষ আসছেন নতুন জামাইকে দেখতে।