এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : খুলনার বাজারে সবজির দাম দিন দিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে অস্থিরতা চললেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নতুন বাজার, মিস্ত্রিপাড়া ও গল্লামারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম আগের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে। পেঁপে ছাড়া কোনো সবজিই ৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
সবজির বাজারে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের কেজি উঠেছে ১৩০ টাকায়, যা অনেক পরিবারের জন্য এখন প্রায় বিলাসদ্রব্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ঝিঙে ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজিতে। আর উচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নতুন বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী শিরিন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা পরিবারের জন্য সামান্য বাজার করতেই এখন হাজার টাকা লাগে। আগে যেখানে তিন-চার ধরনের সবজি কিনতে পারতাম, এখন বাধ্য হয়ে শুধু একটা-দুটো সবজি নিয়েই ফিরতে হয়। দাম শুনলেই মাথা ঘুরে যায়।’
গল্লামারি বাজারে চাকরিজীবী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে গেলে মনে হয় আমরা সাধারণ মানুষ আর কিছুই কিনতে পারব না। বেতনের টাকা গলে যাচ্ছে বাজারেই। সন্তানদের পছন্দের সবজি কিনতে পারছি না, এটা ভীষণ কষ্টের।’
অন্যদিকে বিক্রেতারা দিচ্ছেন নানা যুক্তি। মিস্ত্রিপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা মনিরুল হক জানান, ‘আমাদের হাতে তো কিছু নেই। চাষিরা ঠিকমতো সরবরাহ দিতে পারছে না, আবার পরিবহন খরচও বেড়েছে। বৃষ্টিতে অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে দাম কমার কোনো সুযোগ নেই।’
নতুন বাজারের আরেক বিক্রেতা শাহিন মোল্লা বলেন, ‘ক্রেতারা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন, কিন্তু আমরা খুচরা ব্যবসায়ী। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমাদেরও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। ক্রেতাদের চাপ আমরা বুঝি, কিন্তু নিজেরাও সমস্যায় আছি।’
সবজির পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বস্তি নেই চালের বাজারেও। ভারত থেকে চাল আমদানি হলেও খুলনার বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। শুধু আটাশ বালাম চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কমলেও, মিনিকেট চালের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। মাঝারি মানের মিনিকেট চাল এখনো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৭০ টাকায়, আর ভালো মানের মিনিকেটের দাম ৮৫ টাকা পর্যন্ত।
খুলনার গৃহিণীরা বলছেন, শুধু সবজি নয়, চাল, ডাল, মাছসহ সব কিছুর দাম একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিস্ত্রিপাড়া এলাকার গৃহবধূ সালমা বেগম বলেন, ‘আগে মাসে যে টাকায় বাজার হতো, এখন সেই টাকায় অর্ধেকও হয় না। একদিকে বাচ্চাদের পড়াশোনা, অন্যদিকে সংসার-সবকিছু সামলাতে এখন আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’