এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে।
আহতরা হলেন সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত টেঙ্গুরের বড় ভাই পটল রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাহার মেম্বারও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয়দের দাবি, দুই থেকে তিন দিন আগে ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তা বাগ্বিতণ্ডা, উত্তেজনা এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে টেঙ্গুর সড়কির আঘাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আঘাতে তার পেট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।