শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৩:০১

২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা বিল!

২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা বিল!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মাগুরায় আবারও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ উঠেছে। এবার মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের চা দোকানি বাবু মোল্যা নামে এক গ্রাহকের ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানালে বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়।

গ্রাহক বাবু মোল্যা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে আসত। কিন্তু এবার বিলে মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকা বিল করা হয়। অস্বাভাবিক এ বিল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।

বাবু মোল্যা বলেন, আমার বাড়িতে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল আসে। এবার ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিল দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পরি। গত বুধবার মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বিল পরিশোধ করতে গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। পরে বিল গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে তারা বিলটি যাচাই করে সংশোধন করে দেন।

সংশোধিত বিলে গত তিন মাসের বকেয়াসহ চলতি মাসের মোট বিল দেখানো হয় ৭০৫ টাকা। এর সঙ্গে বিলম্ব বিল যুক্ত হয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১২ টাকা। সংশোধিত বিলে বিল পরিশোধের শেষ তারিখ হিসেবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এস এম শাহিন আহসান বলেন, বিলের কাগজ না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুরোনো কোনো বিলের টাকা যুক্ত হতে পারে। তবে ২০ ইউনিটের বিল এত টাকা হওয়ার কথা নয়।

এর আগে মাগুরায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আরও বড় ধরনের অস্বাভাবিকতার ঘটনা আলোচনায় আসে। ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়া হয়েছিল। অস্বাভাবিক ওই বিল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

ওই ঘটনার পর মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করে নতুন বিল দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে এবার ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিলের ঘটনা সামনে এলো। যদিও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে, তবে পরপর অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় যেন এ ধরনের ভুল আর না হয়, সে জন্য বিল প্রস্তুতের আগে তথ্য যাচাই ও তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।