শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮:২১

দিনভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

দিনভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কজুড়ে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর পুরাতন পোস্ট অফিস রোডের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও বাহিরগোলা রোড এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ইলিয়ট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে এসএস রোড, মুজিব সড়কসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইদুর রহমান বাচ্চু ও হাজী আব্দুস সাত্তারের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে শহর যুবদলের সহসভাপতি সোহান আহমেদ শামীম এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘আমরা যখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করছি, তখনই সাইদুর রহমান বাচ্চু ও ছাত্রদল সভাপতি সবুজের লোকজন আওয়ামী লীগের টাকা খেয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। ঠিক তখনই আমরা সিরাজগঞ্জের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারা দাঁতভাঙা জবাব দেই।’

সংঘর্ষের সময় নিজের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

তিনি বলেন, ‘আমি বগুড়ায় অবস্থান করছি। বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। দুপুরের দিকে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হাজি আব্দুস সাত্তারের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাজি আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘আমি এই সংঘর্ষের ব্যাপারে কিছুই জানি না।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘কেন কী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে, সে বিষয়ে বলতে পারব না। তবে সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে