বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫, ০৬:৩৫:৩৬

পরিবারের কাছে সেই জঙ্গি এখন আপদ!

পরিবারের কাছে সেই জঙ্গি এখন আপদ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হাসিখুশি গোলগাল চেহারার ছোট্ট ছেলেটি। আনেক শান্ত-ভদ্র ভাবেই সবসময় বাড়িতে থাকতো। পড়া-লেখায় তেও ছিল তুখর, ব্রাসেলসের সব থেকে নামকরা স্কুল স্যাঁ পিয়ের দুকল্-এর ছাত্র ছিল৷ কিন্তু এমনই কিছু কারজ করে বসেছে যার কারণে এই ছেলেটি তার বাড়ির লোকের কাছে এখন বড় একটি আপদ। তার মৃত্যুর খবরেই যেন স্বস্তি আসবে তাদের মনে। টাইমস অপ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে। বাড়ি থেকে বাহির হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়ে গিয়েছে৷ ২০১৪ সালের দিকে যখন সেই ছেলেটির বয়স ২৬ বছর তখন একটি ভিডিও পাওয়া যায়৷ সে ছেলেই ভিডিওটি প্রকাশ করেছে এতে তার একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। ছেলেটি বললো, 'সারা জীবন শুধু মুসলিমদের রক্ত ঝরতে দেখলাম৷ প্রার্থনা করি, যারা আল্লার বিরোধিতা করবে তার অনুগত সেনা ও অনুগামীরা তাদের একদিন শেষ করে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ৷' সেই স্কুলের ছোট্ট ছাত্রটিই আজকের জঙ্গি খ্যাতাব পাওয়া আবদেলহামিদ আবাউদ৷ প্যারিসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সম্ভাব্য মূল চক্রী৷ মানুষ হত্যা করার নেশা তার দিন দিন বাড়তে থাকে৷ সে বারা বারই এমন জায়গায় পৌঁছয় যেকোন সময় তার মৃত্যুর খবর আসতে পারে। গত বছর একবার গুজব ছড়িয়েছিল যে সিরিয়ায় আবাউদ নিহত হয়েছে, এ খবরে অন্যদের সঙ্গে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছিল তার পরিবারও৷ আবাউদের বড়দিদি ইয়াসমিন বলেছিলেন, 'সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি, এই খবর যেন সত্যি হয়৷' যে আবাউদ ২০১০ সালে ছােট চুরির জন্য জেলে গিয়েছিল, ছাড়া পেয়ে ২০১৪ সালে সে-ই পাড়ি জমাল সিরিয়ায়৷ কস্মিনকালেও যার ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না, হঠাত্‍ সে হয়ে গেল জিহাদি৷ এমনকি এতটাই পরিবর্তন আসলো তার মাঝে, যে ১৩ বছর বয়সি ছোট ভাই ইউনিসকেও সে সিরিয়ায় আসতে প্ররোচিত করে৷ এর পরই আবাউদের বাবা ওমর তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন৷ সেই সময় ওমর সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি আর পারছি না৷ আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ওই ছেলে আমাদের মান, সম্মান, সব ডুবিয়েছে৷ কোনওদিন আর ওর মুখদেখতে চাইনা আমি।' এক সময়, ওমর ব্রাসেলসের মোলেনবিক এলাকায় একটি কাপড়ের দোকান চালাতেন৷ সপরিবার থাকতেন ফিউচার স্ট্রিটে৷ আবাউদের কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে বেলজিয়াম ছেড়ে এখন তারা মরক্কোর বাসিন্দা৷ ফিউচার স্ট্রিটের বাড়িটিরও বিক্রিকরার কথা চলছে৷ আন্তর্জাতিক দুনিয়া এখন আবাউদকে কুখ্যাত জিহাদি বলে আখ্যা দিয়েছে৷ সেই আবাউদকে ধরতে বুধবার ফ্রান্সের পুলিশ হানা দিয়েছিল প্যারিসের শহরতলি স্যাঁ দেনির একটি বাড়িতে৷ পুলিশ-গোয়েন্দা-সেনা, সব বিভাগের চোখে ধুলো দিয়ে যে বেলজিয়াম-ফ্রান্স-সিরিয়া ঘুরে বেড়িয়েছে, এ বার বোধহয় তার দিন ঘনিয়ে এল৷ সোমবারই পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, আবাউদই গত শুক্রবারের প্যারিস নাশকতার মূল চক্রী৷ সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১২৯ জনের৷ আবাউদ সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়াই ছিল পুলিশের৷ কিন্তু কখনও পুলিশের হাতের নাগালের মধ্যে আসেনি সে৷ আবাউদের জন্ম মরক্কোতে৷ পরে তারা বেলজিয়ামে চলে আসে৷ ব্রাসেলসের বহুজাতি ভিত্তিক মলেনবিক-সাঁ-জাঁ এলাকায় বড় হয়েছে সে৷ ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে দু'টি নাশকতার ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য চক্রী হিসেবে নাম জড়িয়ে গিয়েছিল তার৷ দু'টি ছকই অবশ্য ব্যর্থ হয়৷ প্যারিসগামী দ্রুতগতির একটি ট্রেন ও প্যারিসের শহরতলির একটি চার্চ ওই নাশকতার লক্ষ্যে ছিল৷ বেলজিয়াম পুলিশেরও সন্দেহের তালিকায় শীর্ষেই ছিল আবাউদের নাম৷ সে দেশের ভেরভিয়েরে একটি জঙ্গি শাখাকে সংগঠিত করা ও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে৷ পুলিশি অভিযানে ধ্বংস হয় ওই শাখা৷ মারা যায় দুই জঙ্গি, যাদের আবাউদের সঙ্গী বলেই মনে করা হয়েছিল৷ তাও আবাউদের কোন রকম কিছু করতে পারেনি পুলিশ৷ ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ইংরেজি ভাষার পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়েছিল, জঙ্গি কার্যকলাপ গড়ে তুলতে গোপনে বেলজিয়াম ফিরে এসেছে আবাউদ৷ সিরিয়া থেকে ফেরার সময়েই আবাউদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় আইএস নেতা আবু মহম্মদ অল-আদনানির৷ তখর তার দেশে থাকা বিধর্মীদের খতম করার ডাক মনে ধরে আবাউদের৷ অল-আদনানির রেকর্ডেড বার্তায় 'বিধর্মী'দের তালিকায় ফরাসিদের বলা হয়েছিল 'ঘৃণ্য ও হিংসুটে'৷ কিন্তু বেলজিয়ামে ছবি-সহ তার নামে হুলিয়া জারি হতেই ফের আবাউদ পালিয়ে যায় সিরিয়ায়৷ মজা করে একবার সে বলেছিল, 'এক পুলিশ অফিসার আমাকে আটকেছিল৷ আমার মুখের সঙ্গে ছবির মিল খুঁজছিল বোধহয়৷ কিন্তু শেষপর্যন্ত তার মিল খুজে পায়নি! তাই আমাকে ছেড়ে দেয়৷' ফ্রান্সের এক সাংবাদিক একবার তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আবাউদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন৷ এতিয়েঁ উবার নামে ওই সাংবাদিক সোমবার জানিয়েছেন, 'আমার এক দিকে ছিল বিস্ময়৷ অন্য দিকে আমি দেখেছিলাম, কিছু ঘটতে চলেছে৷ আপনি তাকে নির্দেশ দিতে দেখতে পারেন৷ যে কোনও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তৈরি থাকায় তাকে একজন নেতা বলেও মনে হতে পারে৷' ১৯ নভেম্বর, ২০১৫/এমটিনিউজ২৪/জহির/মো:জই

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে