আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হঠাৎ কী হলো, একেবারে উল্টে গেল স্বর্ণের বাজার! বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, এবার স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড হয়েছে। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে টানা পতন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
গতকাল রাতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯১৪ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে রুপার বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ১৮ শতাংশ দরপতনের পর চলতি সপ্তাহে রুপার দাম আরও ১২ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০১১ সালের পর নির্দিষ্ট এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে সাপ্তাহিক হিসাবে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯৯৯ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৭৩ দশমিক ০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।