মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫, ০৯:০৯:২১

জার্মানির বিদ্যালয়ে ফিরছেন হিটলার!

জার্মানির বিদ্যালয়ে ফিরছেন হিটলার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবার ফিরছেন অ্যাডলফ হিটলার। জার্মানির স্কুলের শিক্ষায় ফিরে আসছেন তিনি। শিশুদের চরমপন্থা থেকে দূরে রাখার জন্য হিটলারের আত্মজীবনীমূলক বই ‘মেইন ক্যাম্প’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানিয়েছে দেশটির শিক্ষক সমিতি। কুখ্যাত বর্ণবাদী ও ইহুদি বিরোধী এই বইটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কিছু দিন আগে প্রথমবারের মতো জার্মান ভাষায় পুনঃপ্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকাশ হওয়ার পর প্রায় ৯০ বছর ধরে বইটি জার্মানিতে নিষিদ্ধ রয়েছে। শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক চরমপন্থার বিরুদ্ধে শিক্ষা দিতে জার্মান শিক্ষক সমিতি বইটির নতুন সংষ্করণ মাধ্যমিক শ্রেণীগুলোতে পড়াতে চায়। প্রস্তাবটিকে দায়িত্বহীন বলে নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইহুদি গোষ্ঠী। ‘মেইন ক্যাম্প’ বইটিতে সুপ্রজননবিদ্যা এবং জাতিতত্ত্ব থেকে শুরু করে সিফিলিস এবং চলচ্চিত্রসহ সকল বিষয়ে হিটলারের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বইটিতে হিটলারের দীর্ঘ ক্লান্তিকর অসংলগ্ন ভাবনা-চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে। জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশ বইটির কপিরাইটের মালিক। বইটি কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা না হলেও ১৯৪৫ সাল থেকে বাভারিয়া প্রদেশ বইটি মূল জার্মান ভাষায় প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আগামী বছর নববর্ষের দিন বইটির কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সরকারি উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান বইটির সমালোচনামূলক সংষ্করণ প্রকাশ করবে। যদিও নতুন সংষ্করণটি শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং হিটলারের চিন্তার ত্রুটিগুলো প্রকাশ করে কয়েকশ পৃষ্ঠা নোট থাকবে; কিন্তু বইটির প্রকাশনার বিষয়টি জার্মানিতে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে জার্মান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জোসেফ ক্রুস বলেছেন, বিদ্যালয়গুলোতে বইটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীরা খুব সহজেই বইটি ইন্টারনেটে খুঁজে বের করতে পারে। বইটি নিষিদ্ধ থাকলে এর থেকে কিশোর-কিশোরীরা ভুল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এর চেয়ে বরং ভালো বইটি সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস এবং রাজনীতির শিক্ষকদের দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়ানো। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। ১৬ বছর এবং এর থেকে বেশি বয়সীদের বইটির নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ যতœসহকারের পড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জার্মানীর ইহুদি গোষ্ঠী এই ধারণাটি নিয়ে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। ২২ ডিসেম্বর ২০১৫/এএমটিনিউজ২৪/সৈকত/এমএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে