মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০, ১২:৪২:৩৭

করোনা রু'খতে এবার কলকাতায় বাঙালীদের গোমূ'ত্র খাওয়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা

করোনা রু'খতে এবার কলকাতায় বাঙালীদের গোমূ'ত্র খাওয়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা সং'ক্র'মণ ঠে'কা'নোর নামে আর এক ''সং'ক্র'মণ''। গোমূ'ত্র পান করা এবং করানোর হু'জু'গ দিল্লি থেকে সং'ক্রা'মিত হল কলকাতাতেও। দিল্লিতে গোমূ'ত্র পার্টির আয়োজন করেছিল হিন্দু মহাসভা, উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান চ'ক্রপাণি মহারাজ নিজেও। সোমবার কলকাতায় গোমাতার পুজো এবং এবং গোমূ'ত্র পানের আস'র বসালেন বিজেপি নেতা।

করোনার কোনও প্রতি'ষে'ধক যেহেতু এখনও আবি'ষ্কার হয়নি, সেহেতু গোমূ'ত্র পানই বাঁ'চার একমাত্র উ'পায়— জো'র গ'লায় বললেন সেই বিজেপি নেতা। তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানালেন, ওই ক'র্মসূ'চির সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। জোড়াসাঁকো এলাকার বিজেপি নেতা নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় সোমবার গোমূ'ত্র পান করালেন অনেককে। প্রথমে ধুপ-ধুনো-ফুল-ফল-মিষ্টান্নে গোমাতার পুজো, রুটি খাইয়ে গরু এবং বাছুরের সেবা। 

তার পরে ঘ'টিতে করে গোমূ'ত্র বি'লি। প্র'কা'শ্যেই স্থানীয় লোকজনের মুখে আ'লগো'ছে গোমূ'ত্র ঢে'লে দিতে দেখা গিয়েছে ওই বিজেপি নেতাকে। করোনা রো'ধের নি'দান হিসেবে গোমাতার পুজো এবং গোমূ'ত্র পানের ওই আসরে যারা হা'জির হয়েছিলেন, তাদেরও বেশ অকা'তরেই গোমূ'ত্র পান করতে দেখা গিয়েছে। ঘটনা'স্থলে হা'জির এক পুলিশ কনস্টেবলের হাতেও গোমূ'ত্র ঢে'লে দেন বিজেপি নেতা। হাতের তালুতে চু'মু'ক দিয়ে তিনি তা খেয়েও নেন।

শুধু গোমূ'ত্র অবশ্য নয়, লাড্ডুও ছিল গোমাতার প্রসাদ হিসেবে। তবে লাড্ডু খেতে হলে আগে গোমূ'ত্র পান করতে হবে— এই রকম শ'র্ত রা'খা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। করোনা রু'খতে গোমূ'ত্র পান! তা-ও কলকাতার বু'কে! ঘ'ট'নার ছবি সামনে আ'সতেই প্রব'ল প্রতি'ক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক শি'বিরে। 

কলকাতার ডেপুটি মেয়র তথা মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ ক'টা'ক্ষ ছু'ড়ে বলেছেন, ''যাদের চিড়িয়াখানায় থাকার কথা, তারা বাইরে থাকলে এই রকমই হয়।'' আর কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীর উ'দ্বে'গ, ''বিজ্ঞা'নের উ'ল্টো পথে হেঁ'টে করোনা সং'ক্র'মণ রো'খা'র নামে যে ভাবে গোমূ'ত্র পান করানো হচ্ছে, তার ভ'য়'ঙ্কর ফল হতে পারে।''

তার প্রশ্ন, ''গ্রামাঞ্চলে মানুষ যদি দলে দলে গোমূ'ত্র পান করে নতুন কোনও সং'ক্র'মণের শি'কা'র হন, তা হলে কে দা'য়ী থাকবে?'' মুখ্যমন্ত্রী মমতা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এ দিন কোনও ম'ন্ত'ব্য করতে চাননি। করোনা মো'কাবি'লার জন্য তিনি যে প্রশাসনিক বৈঠক ডে'কেছিলেন, তা শেষ হওয়ার পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই সং'ক্রা'ন্ত প্রশ্নের স'ম্মু'খীন হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কোনও বিত'র্কিত বিষয়ে তিনি কথা বলতে চান না।

তবে চিকিৎসকরা এই কা'ণ্ডের স'মালো'চনায় সরব। ভা'য়ারো'লজিস্ট অমিতাভ নন্দীর মতে, ''গোমূ'ত্রের মাধ্যমে ভাই'রাস ভাল হওয়ার কোনও বৈ'জ্ঞা'নিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত বিশ্বে পাওয়া যায়নি। এই ভাই'রাস আগে কখনও ভারতে আসেনি। এর বয়স মোটে তিন মাস। তাও ভারতে এসেছে এই সবে। যারা এ সব প্রচার চা'লাচ্ছেন, তারা কোন পরী'ক্ষাগারে পরী'ক্ষা করলেন? কী ভাবে নি'শ্চি'ত হলেন যে এতে রো'গ সারে? এই অ'পপ্র'চার অবৈ'জ্ঞানিক ও ভ'ণ্ডা'মি ছা'ড়া আর কিচ্ছু নয়।''

গোমূ'ত্র পান করানোর হো'তা যিনি, সেই নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এ দিন গেরুয়া পোশাক পরে এবং বুকে পদ্মফুলের ব্যাজ লাগিয়ে সবার মুখে গোমূ'ত্র ঢালছিলেন। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বলছেন, নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের ওই আয়োজনের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ''ওই ক'র্মসূ'চির সঙ্গে বিজেপির কোনও যো'গ নেই। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব কারওকে এই রকম কোনও ক'র্মসূ'চি আয়োজন করতে বলেননি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বলেননি যে, করোনা রু'খতে গোমূ'ত্র পান করান। যিনি এ সব করেছেন, তিনি নিজের দায়িত্বে করেছেন।'' 

লোককে গোমূ'ত্র পান করানোর সময়ে নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের বুকে যে পদ্মফুলের ব্যাজ লাগানো ছিল? সায়ন্তন বলেন, ''পদ্মফুল যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। ওটা জাতীয় ফুল। পদ্মফুল মানেই বিজেপি নয়।'' যিনি এই কা'ণ্ডের প্রধান আয়োজক ছিলেন, সেই নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচ'লি'ত নন। তিনি জো'র গ'লাতেই বার বার বলেছেন যে, করোনা রু'খতে পারে শুধুমাত্র গোমূ'ত্রই। সূত্র : আনন্দবাজার

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে