তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছে ইরান। এই দুই রাষ্ট্রদূত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্মরণে এক সম্মেলন আয়োজন করেন। এই সম্মেলনের ছবি দেখে ইরানের নাগরিকরা- স্বাধীনতা অর্জন পূর্বের আধিপত্যবাদ ও দুঃখের দিনগুলোর কথা মনে করে কষ্ট পেয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত লেভান দেজাগারিয়ান এবং যুক্তরাজ্যের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইমন শেরক্লিফ বুধবার তেহরানের রাশিয়ান দূতাবাসের ঐতিহাসিক সিঁড়িতে এক সম্মেলনে যুক্ত হন। সেখানে দুই রাষ্ট্রদূতের মাঝখানের একটি চেয়ার ফাঁকা রাখা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এই ছবি টুইটারে পোস্ট করলে ইরানের হাজার মানুষ এটা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আসল ঘটনা হলো- ১৯৪৩ সালের তেহরানে তিন শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রশিয়ার একটি সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তির তিন নেতা- জোসেফ স্টালিন, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং উইনস্টোন চার্চিল অংশ নেন। সম্মেলনে বসে তারা কিভাবে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করা যায় সেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
ওই সময়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্য ইরান দখল করে। ইরানে এ সময় পাহলভী রাজ বংশের শাসন চলছিল। এই যুদ্ধে ইরানের রাজা নিরপেক্ষ অবস্থান নেন। কিন্তু বহিঃশক্তির দখলদারিত্বের কারণে ইরানের অধিকাংশ অঞ্চলে ওই সময় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ হয়।
তেহরানে ওই সম্মেলন শেষে মিত্রশক্তি ইরানে দখলদারিত্বের অবসান ঘোষণা করে দেশটির স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বর্তমান ইরানের জন্ম হয়।
বুধবারের সম্মেলনে যে চেয়ারটি ফাঁকা রাখা হয় সেটি যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাস নেই। বিপ্লবের পর ইরানের সাধারণ জনগণ ‘গুপ্তচরবৃত্তির কারখানা’ অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে নেয়। এরপর থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাস নেই। তেহরানে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করে ।
কলোনিয়াল যুগের প্রতীক ওই সম্মেলনের ছবি দেখে অনেক ইরানি ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন।
ইরানের বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালে এসে আমরা ১৯৪১ এবং কিংবা ১৯৪৩ স্মরণ করতে চাই না। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হলেও ইরান কখনও কারও আধিপত্য মেনে নেবে না।
এই ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তিনি এতে কোনো দোষ দেখছেন না। নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তি এখনও ঐক্যবদ্ধ সেটা বোঝাতে তিনি ওই ছবি পোস্ট করেছেন বলে জানিয়েছেন।