এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পে স্কেলের সুপারিশ আমাদের আগে দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমান আর্থিক অবস্থায় এটি কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, সেটি আমরা যাচাই করব।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ট্যাক্স রেভিনিউ এবং ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। তাই পে স্কেল কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য হতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আমাদের লক্ষ্য হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য সুযোগ তৈরি করা।’
আমীর খসরু বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জনগণের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতে হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নয়ন করতে হবে। প্রফেশনালিজম, স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। এর জন্য দরকার ডিরেগুলেশন, লিবারলাইজেশন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং নির্ভর অর্থনীতির বাইরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করা। খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।
মন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে বলেন, ‘বরিশালের সাধারণ শীতলপাটির দাম ৬০০-৭০০ টাকা। যদি কারিগরদের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও অনলাইন মার্কেটিংয়ের সুযোগ দেওয়া যায়, তারা নতুন ডিজাইন ও বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে পারবে এবং বড় বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং ট্যাক্স রাজস্বের কম থাকায় নবম পে স্কেল সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যবেক্ষণ এবং বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাই এটি এখনো চূড়ান্ত নয়।’