শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১, ০৫:২৫:০৫

তালেবানের হাতে বন্দী 'হেরাতের সিংহ' খ্যাত ইসমাইল খান সম্পর্কে জানুন!

তালেবানের হাতে বন্দী 'হেরাতের সিংহ' খ্যাত ইসমাইল খান সম্পর্কে জানুন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের বিখ্যাত যোদ্ধা ইসমাইল খান 'লায়ন অব হেরাত' নামেই পরিচিত। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে হস্তক্ষেপ করলে সরকারের হয়ে কাজ করেছিলেন এই যোদ্ধা। পরে যুদ্ধে অংশ নেন সোভিয়েতের বিরুদ্ধে। সে সময়ে তার সাহসী ভূমিকার কারণেই মূলত 'লায়ন অব হেরাত' হিসেবে খ্যাতি পান তিনি। 
 
হেরাত প্রদেশের রাজধানী দখলের পরই 'হেরাতের সিংহ' খ্যাত বিখ্যাত যোদ্ধা ইসমাইল খানকে আটক করে তালেবান। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, শুক্রবার হেরাত প্রদেশের কাউন্সিল সদস্য গুলাম হাবিব হাশিমি বলেন, হেরাত শহরের পতনের পর চুক্তি অনুসারে ইসমাইল খানকে তালেবানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

কে এই ইসমাইল খান : ১৯৪৬ সালে হেরাত প্রদেশের শিনদান্দ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ইসমাইল খান। ১৯৭৯ সালে তিনি আফগান ন্যাশনাল আর্মির ক্যাপ্টেন হন। ওই সময় সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে আক্রমণ করলে তিনি বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন। এজন্য তিনি 'হেরাতের সিংহ' পরিচিতি পান। ইসমাইল খান হেরাত প্রদেশের সাবেক গভর্নর। তিনি আফগানিস্তানের জ্বালানি ও পানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। 

তিনি আফগানিস্তানের জমিয়তই ইসলামীর শীর্ষ নেতা এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্টের সাবেক সদস্য। এ যুদ্ধের পর আর সম্মুখে ছিলেন না ইসমাইল খান। কিন্তু গত জুলাইয়ে হেরাতে তালেবান হামলা শুরু করলে ইসমাইল খান আবারও প্রকাশ্যে আসেন। ইসমাইল খান এবং তার যোদ্ধারা তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। তাদের প্রতিরোধের কারণে তালেবানের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ হেরাত ধরে রাখতে পারেনি ইসমাইল খানের বাহিনী।

তালেবানের হাতে ইসমাইল খানের আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সশস্ত্র সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮টির রাজধানী দখল নিয়েছে তালেবান। বেশ কিছু এলাকায় এখনো তারা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে।  ইতোমধ্যে গোষ্ঠীটি দেশের রাজধানী কাবুল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে লগার প্রদেশের রাজধানী পুল-ই আলম দখলের নেয়।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, মোহাম্মদ ইসমাইল খানের পাশাপাশি আফগানিস্তানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রহমান, সেনাবাহিনীর 'জাফর' ব্রিগেডের কমান্ডার জেনারেল নবী আহমাদজাই, হেরাতের গভর্নর আব্দুস সবুর কানে এবং হেরাতের পুলিশ প্রধান হাসিব সিদ্দিকি তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে মোহাম্মদ ইসমাইল খান একটি গাড়ির মধ্যে বসে আছেন এবং তার দু’পাশে অস্ত্রধারী দুজন তালেবান তাকে পাহারা দিচ্ছে। তালেবানের অনুমতি নিয়ে এ সময় এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল খান বলেন, তালেবানকে এমন আচরণ করতে হবে, যাতে আফগানিস্তানের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে ও সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে