শনিবার, ১১ জুন, ২০২২, ১০:৩৩:৪৯

আচমকাই ভারতের প্রতি চীনের এমন বার্তা!

আচমকাই ভারতের প্রতি চীনের এমন বার্তা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আচমকাই ভারতের প্রতি চীনের এমন বার্তা! এ যেন ঠিক ভূতের মুখে রাম নাম। চিনের মুখে ভারতের প্রশংসা। শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ সংকটে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল ভারত। যা নিয়ে প্রশংসা চিনের। 

দ্বীপরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উন্নতি হলে, নয়াদিল্লির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেজিং। স্বাধীনতার পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিবেশী দেশের এই সংকটে জ্বালানি থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ভারত।

শ্রীলঙ্কাজুড়ে চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকদিন আগে চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, প্রচুর বিনিয়োগ করা সত্বেও কেন বেজিং শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়াচ্ছে না? সে সময় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেছিলেন, "ভারত নানা ভাবে দ্বীপরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে।" নয়াদিল্লির এই উদ্যোগকে এবার সাধুবাদ জানাল বেজিং।

শুধু তাই নয়, শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়াতে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতেও প্রস্তুত বলে জানাচ্ছে চিন। একইসঙ্গে যে সব আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের সঙ্গেও যোগদান করার বার্তা দেন চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। বর্তমানে বিদেশি ঋণে জর্জরিত এই দ্বীপরাষ্ট্র। আর এই ঋণের অধিকাংশ নেওয়া চিনের থেকেই।

শ্রীলঙ্কায় আর্থিক সঙ্কটের কারণ কী? মূলত কো'ভিডের সময় থেকেই শ্রীলঙ্কায় শুরু হয় সমস্যা। দ্বীপরাষ্ট্রের আয়ের একটি বড় অংশ আসে পর্যটন থেকে। কো'ভিড কালে পর্যটন শূন্য হওয়ায়, তলানিতে আসে পর্যটন থেকে আয়। 

তারপরেই চাষ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা সরকার। ১০০ শতাংশ জৈব চাষের কাজ শুরু হয়। কিন্তু, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তে মুখ থুবড়ে পড়ে গোটা বিষয়টি। 

শ্রীলঙ্কায় চরমে পৌঁছায় খাদ্য সঙ্কট। টান পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারেও। সব মিলিয়ে চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে সম্মুখীন হয় শ্রীলঙ্কা। দেশ জুড়ে শুরু হয় সরকার বিরোধী আন্দোলন। আর্থিক সংকট থেকে মুক্তিই এখন শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

অন্যদিকে, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপর দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ফের একবার চিন-ভারত সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ভারতের মত ব্যক্ত করেন বিদেশমন্ত্রী। 

চিনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তিনি বলেন, ''প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বিষয়ে ভারত কখনওই অবস্থান বদলাবে না। ১৯৬২ সালের পর নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্রচুর ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের সুরক্ষার উদ্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।''-এই সময়

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে