আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কয়েক মাস ধরেই ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ মহড়া, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর যুদ্ধপ্রস্তুতির ঘোষণায় দেশটির পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিকোলাস মাদুরোর রাজনৈতিক জীবনের শুরু একেবারেই সাধারণ এক পেশা থেকে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন বাসচালক। ওই সময় থেকেই তিনি শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন। দীর্ঘদিন শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
হুগো চাভেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাদুরো দ্রুত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং চাভেজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। চাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন মাদুরো।
২০১৮ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এ নির্বাচনকে বিতর্কিত বলে আখ্যা দেয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র সংকুচিত করা, বিরোধী দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
২০১৪ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে। তেলের দামে পতন, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশটিতে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
২০১৭ সালে মাদুরো জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন, যা নিয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ঐক্য ও শান্তির নামে নেওয়া কর্মসূচিগুলো মূলত ক্ষমতা সুসংহত করার কৌশল।
মাদুরোর শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তাঁর সরকার ও ঘনিষ্ঠজনদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ভেনেজুয়েলার সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করে কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও পেরুর মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে, যা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।