আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিউইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি কারাবন্দি অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদকে ব্যক্তিগত সংহতিপত্র পাঠানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উমর খালিদের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে মামদানি একটি হাতে লেখা নোট দেন, যা পরবর্তীতে কারাগারে থাকা খালিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিদের উচিত অন্য দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই পদক্ষেপকে 'দায়িত্বহীন' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পক্ষপাতমূলক মতামত প্রকাশ করা শোভন নয় এবং তাদের উচিত অন্যের বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে নিজের অর্পিত দায়িত্বে মনোযোগ দেওয়া।
উমর খালিদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন 'ইউএপিএ'-র আওতায় মামলা চলায় এবং বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় নিউইয়র্কের মেয়রের এই ভূমিকাকে ভারত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে (সিএএ) কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে আছেন এবং একাধিকবার আবেদনের পরও তার জামিন মঞ্জুর হয়নি।
এই দীর্ঘ কারাবাসের প্রেক্ষাপটে বিদেশি কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির সংহতি প্রকাশের ঘটনাটি ভারতের কূটনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।