মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২২:৪৫

সতর্ক করে যে বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের

সতর্ক করে যে বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের (পিওকে) সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে গত বছর শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘‌‘অপারেশন সিঁদুর’’ এখনও চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসলামাবাদকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান কোনও ধরনের ‘‘দুঃসাহস’’ দেখালে তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

চলতি বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেনারেল দ্বিবেদী ওই মন্তব্য করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় এই সেনাপ্রধান বলেছেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সৈন্য মোতায়েন করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাকিস্তান কোনও ধরনের ভুল করলে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্যও সৈন্যরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

গত বছরের ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ৭ মে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে ‘‘অপারেশন সিঁদুর’’ শুরু করে ভারত। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) অনুসারী দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট পেহেলগামে হামলা চালানোর দাবি করে।

পাকিস্তানের ভেতরে ও পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে ভারতের সামরিক বাহিনীর ওই অভিযানে ১০০ জনেরও বেশি নিহত হন বলে দাবি করে ভারত।

এরপর পাকিস্তানও ভারতের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরে পাকিস্তানের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়  ভারত। গত ১০ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় উভয়পক্ষ।

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, অপারেশন সিঁদুর ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা এবং প্রতিক্রিয়া কিংবা জবাব দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতার আওতায় ত্রি-সেবার সমন্বয়ের সর্বোত্তম উদাহরণ। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৭ মে ২২ মিনিটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু থেকে ১০ মে পর্যন্ত ৮৮ ঘণ্টা ধরে পরিচালিত ওই অভিযানে পাকিস্তানের গভীরে আঘাত হেনে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হুমকির বাগাড়ম্বরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, এবার আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি; বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মিরে যে ধরনের গোলাবর্ষণ হয়েছে, আমরা যেভাবে তা মোকাবিলা করেছি এবং যেভাবে তাদের প্রায় ১০০ জনকে নির্মূল করেছি—এসবই সম্ভব হয়েছে প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে। ওই ৮৮ ঘণ্টায় সেনাবাহিনীর মোতায়েন এমন ছিল যে পাকিস্তানের যেকোনও ভুলে, আমরা স্থল অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম।

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ৩১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে; যার মধ্যে ৬৫ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। অপারেশন মহাদেবে পেহেলগাম হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীকেও হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অংকের ঘরে নেমে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে