বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৮:৩১

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের আকাশসীমা ও ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের আকাশসীমা ও ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এ অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর ভেতরে থেকে যেকোনো যুদ্ধবিরোধী উদ্যোগকে স্বাগত জানায় তেহরান।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)ও ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘শত্রুতামূলক’ সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা ইরানের দিকে নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ সেখানে যাচ্ছে। আমরা চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা প্রস্তুত থাকছি।

সোমবার রয়টার্সের খবরে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তারা একে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় দমন-পীড়ন হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য দায়ী বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা’।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে