শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩২:১৮

ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে বৃহস্পতিবার রুপির মান কমে দাঁড়ায় ৯১.৯৮৫০-এ, যা আগের সপ্তাহে গড়া সর্বনিম্ন রেকর্ড ৯১.৯৬৫৯-কেও ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ভারতীয় মুদ্রার ওপর চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত রুপির মান প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্য রফতানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করার পর থেকে রুপির অবমূল্যায়ন দ্রুত বেড়েছে, যা মোটামুটি ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতের সরকারি তথ্যানুযায়ী গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.২ শতাংশ।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় রফতানির ওপর আরোপিত মার্কিন উচ্চ শুল্ক কমতে পারে বলে তারা আশা করছেন। তবে শুল্ক হ্রাসে বিলম্ব ঘটায় মধ্যবর্তী এই সময় ভারতের বৈদেশিক ভারসাম্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৪ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্পট মার্কেট খোলার আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে। এক বিদেশি ব্যাংকের ব্যবসায়ী জানান, রুপি যখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯২ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল, তখন পতনের গতি কিছুটা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, শুধু উচ্চ মার্কিন শুল্কই নয়—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক পুঁজি প্রত্যাহার, সোনার মুদ্রা আমদানি বৃদ্ধি এবং করপোরেট খাতের ভবিষ্যৎ উদ্বেগও রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হওয়া এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পরও এই চাপ কমেনি।

 শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইউরো ও চীনা ইউয়ানের বিপরীতেও রুপির মান প্রায় ৭.৫ শতাংশ করে কমেছে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে রুপির ‘রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট’ ছিল ৯৫.৩, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

 এই অব্যাহত প্রতিকূল পরিস্থিতি রুপিকে ক্রমেই রিজার্ভ ব্যাংকের বাজার হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে মিলিয়ে নিট ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ডলার বিক্রি করে রুপিকে সমর্থন দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। বাজারে তারল্য কমে যাওয়ায় সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বা মুনাফা বাড়ছে, যা ঋণের খরচকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে।

 বন্ড ইয়েল্ডের ঊর্ধ্বগতি এবং মুদ্রার ওপর ক্রমাগত চাপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একটি নীতিগত ত্রিমুখী সংকট তৈরি করেছে। যেখানে মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা, ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং পুঁজির অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

 সব মিলিয়ে, ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলেও বৈশ্বিক রাজনীতির শুল্কনীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়ার প্রবণতা ভারতীয় রুপিকে ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে