রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ০৮:২৬:২৮

জিবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই; উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহ ৬ ইসরাইলি সেনার মৃত্যু

জিবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই; উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহ ৬ ইসরাইলি সেনার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত তিন দিনের লেবাননের জিবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে অন্তত ৩ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

ইসরাইলি আর্মি রেডিওর বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ছয় ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন এবং গত তিন দিনে আরও ২০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন।

এদিকে ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান দফার লড়াইয়ে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

লেবাননে ইসরাইলের প্রায় প্রতিদিনকার হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ ইসরাইলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরাইল স্থল অভিযান শুরু করে। ২৬ মার্চ ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, ইসরাইল লিটানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন দখল করবে, যা দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর, গত ৮ এপ্রিল ইসরাইলি বাহিনী মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে হামলা চালায়। এতে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।

১৬ এপ্রিল ইসরাইল ও লেবানন একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলতে থাকে। এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ একে অপরকে দায়ী করে।

গত ৭ জুন ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বোমা হামলা চালালে, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

সবশেষে, গত ১৯ জুন মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেওয়া হলেও, দক্ষিণ লেবাননে এখনো লড়াই চলছে।
 
বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, ইসরাইলের কাছে যুদ্ধবিরতির অর্থ হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে তাদের সেনাদের ওপর কোনো হামলা হবে না কিন্তু তারা জমি দখল করা অব্যাহত রাখবে। গাজায় ঠিক এটাই ঘটছে। লেবানন এবং এমনকি সিরিয়াতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে।
 
তথাকথিত এই 'নিরাপত্তা অঞ্চল' তৈরির নীতিটি মূলত গাজা থেকেই শুরু হয়েছিল এবং এর সাথে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

গাজায় ইসরায়েল যে বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল, সেগুলোই এখন তারা লেবাননে স্থায়ী রূপ দিতে চায়। যেমন সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রাম ধ্বংস করা, জমি দখল করা এবং এমন কিছু এলাকা তৈরি করা যা কেবল ভবনহীন নয়, বরং সম্পূর্ণ জনমানবহীন হবে। বিশেষ করে শিয়া প্রধান গ্রামগুলোকে তারা হিজবুল্লাহর ঘাঁটির সমতুল্য মনে করে এবং সেগুলো পুরোপুরি ফাঁকা করতে চায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি নীতিনির্ধারকদের ভয় হলো— তারা যদি লেবাননের এই দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দেয়, তবে সিরিয়াতেও তাদের একই কাজ করতে হবে। আদর্শগত কারণেই ইসরাইল এই ছাড় দিতে একেবারেই প্রস্তুত নয়। তাছাড়া বর্তমান ইসরাইলি সরকারের মূল ভিত্তি হলো দেশটির ডানপন্থীরা, যারা এই পিছু হটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে