আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় তিন দশক পর শীত মৌসুমে পবিত্র রমজান পালন করতে যাচ্ছেন সৌদি আরবের মুসলমানরা। ফলে এ বছর দেশটিতে রোজার সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হবে। জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৌদি আরবে এবারের রমজানে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিদ আবদুল্লাহ আল-মোসনেদ জানিয়েছেন, ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান শীতকালে শুরু হওয়ায় দিনের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকভাবেই কম থাকবে। সূর্যোদয় হবে তুলনামূলক দেরিতে এবং সূর্যাস্ত হবে দ্রুত, ফলে সিয়ামের সময়ও হ্রাস পাবে। এতে করে আগের কয়েক বছরের তুলনায় রোজা পালন হবে অনেক সহজ ও আরামদায়ক।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক দশক ধরে রমজান মূলত গ্রীষ্ম মৌসুমেই পালিত হয়েছে। সে সময় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে হয়েছে, সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড গরম ও খরতাপ। এতে বয়স্ক মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের জন্য রোজা পালন ছিল শারীরিকভাবে বেশ কষ্টসাধ্য। তবে ২০২৬ সালে সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম সময়ের রোজা ও শীতল আবহাওয়া মুসল্লিদের ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। ক্লান্তি কম থাকায় নামাজে খুশু বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে তারাবি, তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল আদায়ে স্বস্তি মিলবে। একই সঙ্গে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চন্দ্র বছরের হিসাবে প্রতি বছর রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর পর আবারও শীত মৌসুমে রমজান ফিরে এসেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের কাছে এটি এক বিশেষ আনন্দের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।