রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪১:৪৭

খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কে এই লারিজানি?

খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে কে এই লারিজানি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এরপর অভিজ্ঞ রাজনীতিক আলী লারিজানি রোববার ঘোষণা করেছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। খবর রয়টার্সের।

গত এক বছরে লারিজানি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। পারমাণবিক আলোচনা, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন—সব ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি শুরু থেকেই শাসনব্যবস্থার ভেতরের মানুষ। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আলোচনায় তদারকি করছিলেন।

রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন।

গত আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি)-এর সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে লারিজানি খামেনির একজন বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। গত মাসেও তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পরমাণু আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন।

পারমাণবিক ইস্যুতে লারিজানি কিছুটা নমনীয় বা বাস্তববাদী অবস্থান দেখিয়েছেন। তিনি ওমানি টেলিভিশনকে বলেছিলেন, ‘আমার মতে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যদি কেবল ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে হয়, তবে সেই বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।’

বাস্তববাদী ভাবমূর্তি থাকলেও গত জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে চলা বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লারিজানির ভূমিকা ছিল কঠোর। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, লারিজানিই প্রথম সারির নেতাদের একজন, যিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ডাক দিয়েছিলেন। পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোও দাবি করেছে, সেই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

লারিজানি অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে হওয়া আন্দোলনকে ‘জনগণের প্রতিবাদ’ বললেও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের তিনি ‘শহুরে আধা সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সাবেক রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য লারিজানি পরবর্তীতে পরমাণু আলোচক (২০০৫-২০০৭) ও পার্লামেন্ট স্পিকার (২০০৮-২০২০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে তার সময়েই ইরান বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া লারিজানি এক বিখ্যাত আলেম পরিবারের সন্তান। তার ভাইয়েরাও বিচার বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও ইরানের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। তবে নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া এই সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে একজন দক্ষ ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে