সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৫:২২

এবার ‘যুদ্ধে যুক্ত হলো যুক্তরাজ্য’— এদিকে যারা যোগ দিল ইরানের সঙ্গে

এবার ‘যুদ্ধে যুক্ত হলো যুক্তরাজ্য’— এদিকে যারা যোগ দিল ইরানের সঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, তারা ইরানের মিসাইল ব্যবস্থায় হামলা চালাতে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন।

সোমবার এ ব্যাপারে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অর্থাৎ সরাসরি যুক্ত হবেন না তারা।

স্টারমার বলেছেন, “আমাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্যে) বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তাদের রক্ষায় আমাদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছে। আমাদের ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো বর্তমানে আকাশপথে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযানে অংশ নিচ্ছে... এবং তারা ইতিমধ্যেই ইরানের ছোড়া বেশ কিছু হামলা সফলভাবে রুখে দিয়েছে।”

“তবে এই হুমকি পুরোপুরি বন্ধ করার একমাত্র পথ হলো—মিসাইলগুলোকে সেগুলোর উৎসস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া। অর্থাৎ ইরানের যে গুদামে এগুলো রাখা আছে বা যে লঞ্চার দিয়ে এগুলো ছোড়া হয়, সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।”

“যুক্তরাষ্ট্র 'নির্দিষ্ট এবং সীমিত প্রতিরক্ষা স্বার্থে' ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে।”

"আমরা তাদের এই অনুরোধ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে থামানো, যেন তারা পুরো অঞ্চলে মিসাইল ছুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করতে না পারে, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে এবং এমন সব দেশে হামলা না চালায় যারা এই সংঘাতের সাথে জড়িতই নয়," সূত্র: বিবিসি

এদিকে যারা যোগ দিল ইরানের সঙ্গে 

এদিেইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। খামেনির প্রয়াণকে কেন্দ্র করে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর (প্রতিরোধ অক্ষ) শরিক দলগুলো একযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। 

এই নেটওয়ার্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খামেনির শূন্যতা পূরণে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি সরাসরি তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে এর জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করেছে। হামাস নেতাদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এর পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও চুপ নেই। গোষ্ঠীটির নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।

লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা আরো জোরদার করার হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। একই সুরে কথা বলছে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াগোষ্ঠীগুলো। কাতায়িব হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরানের ওপর এই আঘাতের ফল হিসেবে পুরো অঞ্চলে একটি ‘টোটাল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে খামেনির উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা চলছে।

সম্ভাব্য তালিকায় উঠে আসছে খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনি এবং সাবেক আইআরজিসি কর্মকর্তা আলি লারিজানির নাম। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে