সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, ১১:০২:৩৯

দীর্ঘদিন ধরে সেই সুযোগের অপেক্ষা, অবশেষে সেই সুযোগ, ৩০টি বোমা নিক্ষেপ

 দীর্ঘদিন ধরে সেই সুযোগের অপেক্ষা, অবশেষে সেই সুযোগ, ৩০টি বোমা নিক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দেশের শীর্ষস্থানীয় সবগুলো জাতীয় পত্রিকা সোমবার (২ মার্চ) প্রধান সংবাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহতের খবর। এছাড়াও এদিন পত্রিকাগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করেছে। শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই খবরে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তরফে তার মৃত্যুর খবর চাউর হওয়ার পর তা অনেকেই বিশ্বাস করেননি। 

তবে গতকাল সকালে যখন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই শোকাবহ খবরটি দেয়া হয় তখন ঘরে বসে থাকতে পারেনি ইরানের মানুষ। দলে দলে বের হয়ে আসেন রাস্তায়। জড়ো হন বিখ্যাত খামেনি স্কয়ারে। অশ্রুসিক্ত চোখ ও হৃদয়বিদারক মাতমে ভারী হয়ে ওঠে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ-বাতাস। একদিকে খামেনির মৃত্যুর সংবাদ, অন্যদিকে ইরানিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা- সবমিলিয়ে এক গভীর বেদনায় ভাসছে দেশটির সাধারণ মানুষ।
 
শনিবার সকালে তেহরানে অবস্থিত সরকারি কম্পাউন্ডে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল খামেনির। যে সংবাদ আগে থেকেই পেয়ে যায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। প্রথমে রাতে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও খামেনির বৈঠকের সংবাদের ভিত্তিতে তা এগিয়ে আনা হয়। হামলাটি চালানো হয় সকালে। বলা হচ্ছে ওই হামলাতেই প্রাণ হারান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। অত্যাধুনিক বাঙ্কার-ব্লাস্টার বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয় খামেনির কম্পাউন্ড।

 এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে ইসরাইল। যুদ্ধবিমান থেকে এই বোমা বর্ষণ করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, খামেনির খোঁজ পাওয়ার পরই হামলা চালানো হয়।
 
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইসরাইল এবং মার্কিন গোয়েন্দারা জানতেন যে ঐ ঠিকানায় রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন খামেনি। দীর্ঘদিন ধরে সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দুই দেশের গোয়েন্দারা। অবশেষে সেই সুযোগ আসে শনিবার। আর তারপরই খামেনির দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
 
এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় কি তবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল! যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দম্ভ তেহরান সব সময় করে এসেছে, তা এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেল-মাত্র এক মিনিটের নিখুঁত অপারেশনে। তবে এই হামলার পেছনে শুধু সিআইএ বা মোসাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে ‘ঘরের শত্রু’।
 
ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের শত্রু ‘বিভীষণ’ই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান সম্পর্কে শত্রুকে তথ্য দিয়েছিল। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য আর আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয়ে চালানো এই অপারেশন প্রমাণ করে দিল, বাইরের শত্রুর চেয়েও ঘরের ভেতরের অদৃশ্য শত্রুরাই এখন ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। খবর বিবিসি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে