আন্তর্জাতিক ডেস্ক : খার্গ দ্বীপ। ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলের সাম্রাজ্যে চোখ পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে এই দ্বীপটি নিয়ে ৪০ বছর আগেও একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। সেটিই এখন বাস্তবায়ন করতে চান।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপটি দখল করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায়। একই সঙ্গে ইরানকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। মজার বিষয় হলো—এই ধারণা তার মাথায় এসেছিল প্রায় ৪০ বছর আগে।
১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি ইরানের ব্যাপারে খুব কঠোর হতাম। তারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে আমাদের হারাচ্ছে, আমাদের বোকা বানাচ্ছে।”
ইরানের ওই দ্বীপ দখলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কোনো সৈন্য বা জাহাজের ওপর একটি গুলিও ছোড়া হলে আমি খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের আঘাত করতাম। আমি সেখানে ঢুকে দ্বীপটি দখল করে নিতাম।’
বর্তমানে এই সাক্ষাৎকারটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপ দখল করতে চাচ্ছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব অনেক বড়। ইরান তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপ থেকেই রপ্তানি করে।
১৯৮৮ সালে ট্রাম্প যখন এই দ্বীপটি নিয়ে মন্তব্য করেন তখন চলছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধ। ওই সংঘাতে ৫ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ১৯৮০ সালের দিকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিত এবং ইরানের তেল স্থাপনা ও সমুদ্রের মাইন লক্ষ্য করে হামলাও চালায়।
সেই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের মোকাবিলা করা বিশ্বের জন্যই ভালো হবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা গড়ে ওঠে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবকে ঘিরে। সেই বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলাভি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক রিপাবলিক।
একই বছর নভেম্বর মাসে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস থেকে ৬৬ জন আমেরিকানকে জিম্মি করা হয়। এর মধ্যে ১৪ জনকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ৫২ জনকে ৪০০ দিনের বেশি সময় বন্দি রাখা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ইতিহাস আরও জটিল।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গোপনে ইরানকে অস্ত্রও বিক্রি করেছিল। এই অস্ত্র বিক্রির কিছু অংশ ছিল কুখ্যাত ইরান-কন্ট্রা অ্যাফেয়ারের সঙ্গে জড়িত, যেখানে সেই অর্থ নিকারাগুয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার ফলে বিশ্বে ১৯৭০–এর দশকের তেল সংকটের পর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পরও ইরান খার্গ আইল্যান্ড থেকে তেল লোড করছিল। তবে এটি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।