বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০২:২৯:০৪

এবার ‘কার্যকর ও কঠোর’ আঘাত হানার এক নতুন পর্যায় শুরু করেছে ইরান

এবার ‘কার্যকর ও কঠোর’ আঘাত হানার এক নতুন পর্যায় শুরু করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরান ‘কার্যকর ও কঠোর’ আঘাত হানার এক নতুন পর্যায় শুরু করেছে বলে দাবি করেছে খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরান এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং শক্তিশালীভাবে এই প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো পরিচালনা করছে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর থেকে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দখলকৃত অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

খাতাম আল-আম্বিয়া হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী যৌথভাবে বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে খোররামশাহর, কদর, ফাত্তাহ, খায়বার-শেখান, ফাতেহ এবং কিয়াম নামক অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। 

এ ছাড়া বিপুল সংখ্যক সুইসাইড ড্রোন বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। মুখপাত্র আরও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের উৎস হিসেবে পরিচিত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুদের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ও ‘ক্রাশিং’ স্ট্রাইক বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো হামলা শুরু করেছে। এই নতুন পর্যায়ে হামলার গতি এবং নির্ভুলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকার অতর্কিত সামরিক অভিযানের পর থেকেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। সেই অভিযানে ইরানের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছেন, যার প্রেক্ষাপটে তেহরান এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ প্রদর্শনী করছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই লড়াই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর চালানো আগ্রাসনের পূর্ণ প্রতিশোধ সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ এই পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। 

বিশেষ করে খোররামশাহর ও ফাত্তাহর মতো হাইপারসনিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করছে তেহরান। এই পরিস্থিতির ফলে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে এবং পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতি এক অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে