বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৬:৫১

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর যে দাবি করেছেন, তা উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর খাতাম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যাঙ্গ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাঘারি বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন।

আজ বুধবার ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাঘারি বলেন, “হ্যাঁ,তারা আলোচনা করছে বটে, তবে ইরানের সঙ্গে নয়। এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে বলতে চাই, নিজেদের ব্যর্থতাকে চুক্তি বলে চালানোর চেষ্টা বাদ দিন।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

এমন পরিস্থিতি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ দফার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমরা (ইরানের সঙ্গে) আলোচনার মধ্যে আছি। আমি আপনাদের বলতে পারি যে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, অবশ্য তারা এখন যে অবস্থায় আছে— সেই অবস্থায় থাকলে কে-ই বা না চাইতো? দেখুন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী নেই, যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এক কথায়, যা ছিল— সব ধ্বংস হয়েছে। তাদের আর কিছুই নেই।”

বুধবার ফার্স নিউজকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাঘারি বলেন, “হ্যাঁ, এ যুদ্ধ থামবে। ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা মার্কিনিদের নোংরা মন থেকে পুরোপুরি মুছে গেলেই যুদ্ধ থামার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।”

“যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই এটাই আমাদের প্রথম ও শেষ কথা ছিল, আছে এবং থাকবে; আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বনিবনা হবে না; এখনও না এবং কখনও না।” সূত্র : আলজাজিরা

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে