এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধি সামাল দিতে সরকার সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। তবে এবার সুখবর, এর অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা বা অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়েও ভাবছে সরকার। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব সরকারি সংস্থাকে নিজ নিজ প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় অফিসগুলোকে চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনায় দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি অফিসে একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যা তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই রুটে কোনো বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।