সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৫:৩১

যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিমান ও কপ্টার ধ্বংস

যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিমান ও কপ্টার ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে অভিযানে গেলে ইরান এগুলো ভূপাতিত করে -এএফপি

ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ থাকা ক্রুকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এ অভিযানে কেউ হতাহত না হলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রুসহ কমান্ডোদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে দুটি পরিবহণ উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছিল, সেগুলো ইরানের এক প্রত্যন্ত ঘাঁটিতে আটকে পড়ে। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত আরও তিনটি উড়োজাহাজ পাঠানো হয়। পরে আটকে পড়া উড়োজাহাজ দুটি যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে ইরান জানিয়েছে অভিযানে আমেরিকার দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহণ বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, স্কাই নিউজের।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ইরান থেকে বিধ্বস্ত বিমানের ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন। তার হাতে ছিল মাত্র একটি পিস্তল। চারপাশে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ইরানি বাহিনী। প্রতি ঘণ্টায় তার কাছে চলে আসছিল ইরানি সেনারা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল। শুরু হয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দুর্র্ধর্ষ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান।

শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয় মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানটি। বিমানের পাইলট ও ক্রু প্যারাসুট নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। প্রথম পাইলটকে ওইদিনই উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয়জন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শত্রু সীমানার গভীরে কয়েক ঘণ্টা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। তার আত্মরক্ষার একমাত্র সম্বল ছিল একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরা দেননি।

শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে কয়েকশ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছিল ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল যখন ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে ইরানি কনভয়ের সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো আকাশ থেকে ইরানি বাহিনীর ওপর মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই কমান্ডোরা ওই পাইলটকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নিতে সক্ষম হন।

ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরেই ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সাফল্যের কথা জানান। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকাবাসী, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।’ উদ্ধার হওয়া ক্রু ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলেও পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘তিনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন।’

ট্রাম্প জানান, এ উদ্ধার অভিযানে ‘কয়েক ডজন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি। আমরা কাউকে পেছনে ফেলে চলে আসি না। তিনি আরও জানান, ‘প্রথম পাইলট উদ্ধারের খবর ইচ্ছা করেই গোপন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযান যাতে কোনোভাবে ফাঁস না হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্যই এই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল।’

এদিকে নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারে আমেরিকার বিশেষ অভিযান ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মধ্য ইরানের ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত এক সমন্বিত অভিযানে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী মরিয়া হয়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই অভিযানে আমেরিকার দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহণ বিমান ধ্বংস হয়েছে। ইরানের মুখপাত্র এ ঘটনাকে আমেরিকার জন্য ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে সফল হিসাবে প্রচার করে ঘটনার গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে ইরান একে সার্বভৌমত্বের ওপর বড় জয় হিসাবে দেখছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে