বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮:০৫

বড় ভুল যুদ্ধবিরতির বার্তায়, হাসির খোরাকে পরিণত

বড় ভুল যুদ্ধবিরতির বার্তায়, হাসির খোরাকে পরিণত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি টুইট এখন ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। কারণ মাত্র একটি শব্দ — 'ড্রাফট'। এই একটি শব্দই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার হাসির খোরাকে পরিণত করেছে।

ঘটনা হলো, শরিফের পোস্টের আগের একটি সংস্করণে ‘Draft - Pakistan's PM Message on X’ লেখা ছিল। চূড়ান্ত পোস্টে এই অংশটি সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এক্সের এডিট ফিচারের কারণে যে কেউ আগের সংস্করণটি দেখতে পাচ্ছিলেন। চূড়ান্ত পোস্টের মাত্র এক মিনিট আগে সেই সংস্করণটি পোস্ট করা হয়েছিল।

ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করেন, বার্তাটি পুরোপুরি প্রুফরিড না করেই কপি-পেস্ট করা হয়েছে।

মূল পোস্টে শরিফ লিখেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থিরভাবে, শক্তভাবে এবং জোরালোভাবে এগিয়ে চলেছে। কূটনীতিকে সময় দিতে আমি আন্তরিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করছি। পাকিস্তান আন্তরিকভাবে ইরানি ভাইদের অনুরোধ করছে, একটি শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে। আমরা সব যুদ্ধরত পক্ষকে দুই সপ্তাহের জন্য সর্বত্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কিন্তু বার্তার বিষয়বস্তুর চেয়ে এডিট হিস্ট্রিই বেশি আলোচনায় এসেছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনাসহ টুইটটি কপি-পেস্ট করেছেন। যিনি একটি টুইট ঠিকমতো পোস্ট করতে পারেন না, তিনি দেশ চালাবেন কীভাবে?’

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘শাহবাজ শরিফকে দেখুন, ট্রাম্প যে বার্তা পোস্ট করতে বলেছেন সেটি এক্সে দিয়ে কত খুশি তিনি।’ এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাখ্যাও দেখা যাচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কেউ এই ড্রাফট লিখে দিলে লিখতেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক্স পোস্ট’। তা না করে ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্স পোস্ট’ লেখায় তা পাকিস্তানের বাইরের কারো লেখা বলেই ধারনা করছেন নেটিজেনরা।

এই ঘটনা এমন একটি সময়ে ঘটেছে যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পোস্টের পরপরই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। শরিফ তার পোস্টে ঠিক এই দুই সপ্তাহের কথাই উল্লেখ করেছিলেন।

শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করবে। ইসলামাবাদ এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আসতে চাইছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে এই সোশ্যাল মিডিয়া কাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও বেশি আলোচিত করে তুলেছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে