আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ বৈঠকের পর সামরিক এই জোটের ওপর নিজের চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রয়োজন ছিল তখন ন্যাটো পাশে থাকেনি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাওয়া যাবে না।
ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর নির্লিপ্ততায় ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরেই প্রকাশ্য অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতার বিষয়টি তিনি পুনরায় সামনে এনে দ্বীপটিকে ‘বিশাল ও জঘন্যভাবে পরিচালিত এক টুকরো বরফ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হোয়াইট হাউসে বুধবার রুট ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের পক্ষে ন্যাটো নেতা মার্ক রুট নীতিগত সমর্থন দিলেও সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে মিত্র দেশগুলোর অনীহাই ট্রাম্পের ক্ষোভের মূল কারণ।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছিল যাতে ন্যাটোর সদস্যরা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু মিত্র দেশগুলো ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলের অনুমতি বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটার পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় খতিয়ে দেখবে। রুবিওর মতে, ন্যাটো জোটটি এখন আর দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষা করছে না, বরং এটি একতরফা একটি সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকা সবসময় ইউরোপকে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকলেও যখন আমেরিকার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন মিত্র দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন জোট থেকে সরে আসার বা সহযোগিতা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও ন্যাটো থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে ট্রাম্পের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, তবে তিনি চাইলে জোটের ভেতরে সামরিক সহযোগিতা বা অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারেন। চলতি বছরের শুরুতে দাভোস সম্মেলনে মার্ক রুট গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানকে আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা প্রশমিত করতে সক্ষম হলেও বর্তমান ইরান পরিস্থিতি সেই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই লাগাতার হুমকি ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এর ফলে দীর্ঘদিনের এই পশ্চিমা সামরিক জোটটি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সূত্র: দ্য হিল